
নিজস্ব প্রতিবেদক || ১২ ফেব্রুয়ারি 2026
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে এক কংগ্রেসনাল ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ শিরোনামে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ‘হিন্দুঅ্যাকশন’ ও ‘কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা’।
ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ মত দেন, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে মূল্যায়িত হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও আলোচনায় উঠে আসে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূস ও আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন এবং ধর্মের আড়ালে অপরাধ আড়াল করার অভিযোগ তোলেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট বলেন, ইসলামিক চরমপন্থা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রমনিয়ম বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন—দুটিই উদ্বেগজনক এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
ব্রিফিংয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হলে তা অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান। সাউথ এশিয়ান মাইনোরিটিজ কালেক্টিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদরা বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যদের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।