মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া (উভলং) এলাকায় মঁহেন্দ্র স্মৃতি নিকেতনের উদ্যোগে শ্রীশ্রী জ্বালা কুমারী মাতৃমন্দিরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ধর্মীয় উৎসব ও মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার) আয়োজিত এ মহোৎসবে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
উৎসবের প্রথম দিন মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। পরবর্তীতে শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, গঙ্গা আহ্বান ও শুভ অধিবাস কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। কীর্তন পরিবেশন করেন বেতার শিল্পী শ্রী সুধমা দাশ সুজন। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন শ্রীশ্রী রাধামুকুন্দ সেবাকুঞ্জের অধ্যক্ষ শ্রী ঠাকুর নরোত্তম দাস বাবাজী মহারাজ।
এছাড়া অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞের শুভারম্ভ, শ্রীশ্রী জ্বালাকুমারী মায়ের পূজা, মায়ের রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মহোৎসব পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিন্দু রাম দাশের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি শিক্ষক কিরণ দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় মা মগধেশ্বরী ও গঙ্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন মহাজন (লিটু), সহ-সভাপতি দোলন কৃষ্ণ ঘোষ, রাউজান উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক অঞ্জন বিশ্বাস, বিশিষ্ট ব্যাংকার শাহাজাহান, শুভাশীষ চক্রবর্তী, শিবু ভট্টাচার্য, সুজন দে প্রমুখ। এছাড়া রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান বিচারক বাগীশিক রাউজান উপজেলা সংসদের সভাপতি বিটু কান্তি দে, সাংগঠনিক সম্পাদক অর্পন মহাজন (রিপু) এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রিন্স চৌধুরী (শুভ)।
মহোৎসব পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক ঝিন্টু দাশ, অর্থ সম্পাদক দিলীপ দাশ, সহ-অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অজিত দাশ,শিক্ষক স্বপন দাশ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় দিন (২৪ এপ্রিল) রাত ১২টা ০১ মিনিটে শ্রী নিত্যানন্দ সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় আকর্ষণীয় ‘কৃষ্ণলীলা’ অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলে।
তৃতীয় ও শেষ দিন (২৫ এপ্রিল) ঊষালগ্নে মহানামযজ্ঞের পূর্ণাহুতি এবং মাঙ্গলিক নগর পরিক্রমার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত চারটি খ্যাতনামা কীর্তনীয়া দল অংশগ্রহণ করে। এগুলো হলো— শ্রীশ্রী আদিত্য নারায়ণ সম্প্রদায় (হালিশহর, চট্টগ্রাম), শ্রীশ্রী প্রভু প্রাণকৃষ্ণ সম্প্রদায় (ঢাকা), শ্রীশ্রী নিত্যানন্দ সম্প্রদায় (চট্টগ্রাম) এবং শ্রীশ্রী রামকানাই সম্প্রদায় (সিলেট)।
তিন দিনব্যাপী এই মহতী অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্তদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।