মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার
দেশের আরও ৬৭টি শিল্প ও সেবা খাতকে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড। এসব খাতকে আনুষ্ঠানিক মজুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত থাকলেও তারা ন্যূনতম মজুরি, বেতনসহ ছুটি, স্বাস্থ্য সুবিধা কিংবা অন্যান্য শ্রম সুরক্ষার বাইরে রয়েছেন। নতুন খাতগুলোকে মজুরি কাঠামোর আওতায় আনা হলে এসব শ্রমিকের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উৎপাদন, সেবা ও পরিবহন খাতের বিস্তৃত পরিসরের শিল্পকে ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব দেন। মজুরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন-২০২০’ এবং ‘সার্ভে অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ-২০১৯’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন আবেদন এবং বোর্ডের সভায় হওয়া আলোচনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ৬৭টি বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প খাতের তালিকা শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণশিল্প, সুপারশপ, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রিয়েল এস্টেট, বেসরকারি বিমা, কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি, কুরিয়ার সার্ভিস, চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ডেকোরেটর ও ক্যাটারিং সেবা, বিশুদ্ধ পানীয় জল উৎপাদন ও বোতলজাতকরণসহ বিভিন্ন খাত। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণ, বিমান কার্গো সেবা, ফুল চাষ, পশু প্রজনন খামার, চিনি ও মিষ্টান্ন উৎপাদন, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বৈদ্যুতিক তার ও কেবল উৎপাদন, মোটরযান উৎপাদন, খেলনা ও ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন, মোবাইল ফোন ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবাও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।