রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “ভিন্ন মতটাকেই গণতন্ত্র বলা হয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী; কিন্তু ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করতে চাই।”
রোববার বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব-এর নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুরে হলোখানা ইউনিয়ন-এর আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামকে এখনো পশ্চাৎপদ জেলা হিসেবে দেখা হয়। একটি তিস্তা নদীর কারণে কীভাবে একটি জনপদ পিছিয়ে পড়েছে, রংপুর বিভাগ তার উদাহরণ। অথচ নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে ওঠার কথা ছিল।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ সফি খান এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ মাহফুজার রহমান খন্দকার টিউটর। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।
উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, হাসিবুর রহমান ও শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং আবু বকর সিদ্দিক।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামকে উন্নত জেলার কাতারে নিতে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা সঠিকভাবে সমালোচনা করলে জনপ্রতিনিধিরা সঠিক পথে থাকেন, ফলে দেশ ও জনপদের উন্নয়ন হয়।
তিনি আরও বলেন, সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিকতার মান যেমন বাড়ে, তেমনি এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।
এর আগে সকালে লালমনিরহাট থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন শেষে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।