সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : শফিকুল ইসলাম শফিক
এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার পান্না।
পান্নার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা গ্রামে। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড থেকে সে এ কৃতিত্ব অর্জন করে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, পান্না সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর - বাংলা ১৬৪, ইংরেজি ১৬৪, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ৮৬, পদার্থবিজ্ঞান ১৭২, উচ্চতর গণিত ১৭৫, রসায়ন ১৭৭ এবং জীববিজ্ঞানে ১৮৬। জীববিজ্ঞানে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সে সবার নজর কেড়েছে।
তার এই সাফল্যে শিক্ষক, সহপাঠী, পরিবার ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বসিত।
পান্না তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে। আল্লাহর রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া আর স্যারদের পরিশ্রমের কারণে আজ এই ফলাফল পেয়েছি। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি। সামনে মেডিকেলে চান্স পেয়ে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই।"
সাইমা আক্তার পান্নার বাবা-মা বলেন, "আমাদের মেয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। গ্রামের মেয়ে হয়েও সে এত ভালো রেজাল্ট করবে আমরা আশা করেছিলাম। ওর জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি, ও-ও অনেক পরিশ্রম করেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন, যেন সামনে আরও বড় হতে পারে।"
অধ্যক্ষ বলেন, "সাইমা আক্তার পান্না আমাদের কলেজের গর্ব। সে শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিল। ক্লাসে নিয়মিত ছিল, শিক্ষকদের কথা মেনে চলতো। তার এই গোল্ডেন জিপিএ-৫ আমাদের কলেজের জন্য বড় অর্জন। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।"
স্থানীয়রা বলেন, "গরিব ঘরের মেয়ে হয়েও, গ্রামের একটি মেয়ে এত সুন্দর রেজাল্ট করেছে, এটা আমাদের পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। পান্না প্রমাণ করে দিয়েছে, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে গরিব ঘর থেকেও ভালো করা যায়। ওর মতো মেয়েকে দেখে আমাদের এলাকার আরও অনেক মেয়ে অনুপ্রাণিত হবে। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি, সে যেন আরও বড় হতে পারে।"
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় পান্না।