সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া শিবপুর গ্রামের মানবপাচারকারী কাবিদুল ইসলাম ও ডুংরিয়া ওয়ালটন শোরুমের প্রোপাইটার মাটি খেকো রায়হান মিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৩ ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে পুকুরের ন্যায় খনন করে কোটি টাকার মাটি স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেগেছেন। তারা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের তোয়াক্কা না করেই এসব বেআইনী কাজ করে চলেছেন।
জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের অনুমতি না নিয়ে কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়া গ্রামের একটি মসজিদের আঙিনায় মাটি ভরাটের নাম করে দীর্ঘদিন যাবত নির্বিঘ্নে শিবপুর পূর্বের হাওর,সুলতানপুর উত্তরের হাওর,ডাবর সংলগ্ন হাওর,আক্তাপাড়া ইসলামপুর হাওরে সরকারি লায়েক পতিত এবং ফসলি কৃষি জমিতে ৫/৬ টি অ্যাক্সেভেটর মেশিন দিয়ে ৩ ফসলি জমিতে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুরুতে গ্রামের বিভিন্ন জনের জমি থেকে মাটি কর্তন করেছে। পরবর্তীতে সরকারি জমি থেকে মাসব্যাপী এই মাটি কর্তন করা হচ্ছে। জমেছে ইটভাটায় মাটি বেচাকেনার রমরমা ব্যবসা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শিবপুর পূর্বের হাওর,সুলতানপুর হাওর,আক্তাপাড়া ইসলামপুর গ্রামের সন্নিকটে হাওরে বিভিন্ন ফসলি জমি ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। পুকুর আর পুকুরে পরিণত হয়েছে পুরো হাওর এলাকা। অ্যাক্সেভেটর মেশিন লাগিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ সময় ৫-৭টি মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। এসব ট্রাকে মাটি বহনের সময় বিভিন্ন স্থানে কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়া তদারকি করতে দেখা যায়। মাটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাকের চালকগণ জানান, বিভিন্ন বাড়িতে বসতভিটা ও আঙিনা ভরাট করতে এই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। শিবপুর পূর্বের হাওর থেকে ডুংরিয়া যাওয়া পথে বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায় উঁচু উঁচু মাটির টিলা চোখে পড়ে। পাশাপাশি ইটভাটায় মাটি বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন কৃষককে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ১৫শত টাকা ধরে মাটি কিনেছি কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়ার কাছ থেকে। প্লিজ আমাদের নাম বলবেন না। নইলে সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট সদস্যরা আমাকে মারধর করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়ার নেতৃত্বে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা এবং একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মাটি উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারা জানান, ডুংরিয়া গ্রামের বিভিন্ন দোকানে বসে এমন সব গল্প ও দাপুটের কথা শুনে আমরা অবাক হই। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী থেকেই একাধিক মেশিন দিয়ে বর্তমানকাল পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ঘনফুট মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে ইটভাটায়।
অপর ব্যক্তি জানান, বর্তমানে অনেকেই সরকারি খাস ভূমি নিজের রের্কডিয় বলে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছেন সামান্য দামে। কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়া এই মাটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের অ্যাক্সেভেটর মেশিন দিয়ে কেটে ট্রাকে বহন করে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে কাবিদুল ইসলাম ও রায়হান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আমার অ্যাক্সেভেটর মেশিন ভাড়া দিয়ে টাকা পাই ঘণ্টা হিসাবে। আমি মাটি বিক্রির সাথে জড়িত নই। অন্যরা মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন আছি। মাটি কাটার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব।
শান্তিগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন,আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।##