শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি:
সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর—দৃশ্যটি যেন কোনো বিদেশি বাগানের। কিন্তু না, এটি দেশেরই মাটি। যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে আলোচনায় এসেছেন এক তরুণ উদ্যোক্তা।
উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের রাজনগর চোক গ্রামের ইমন হোসেন নামের এই উদ্যোক্তা ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেন ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ। মাত্র ৩৩ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন তার আঙুর বাগান। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউটিউবে আঙুর চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে আগ্রহ জন্মায় তার। এরপর আর দেরি না করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং জীবননগর-দর্শনা এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুরের চারা।
প্রায় এক বিঘা জমিতে ৭০টি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু হয় তার যাত্রা। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর পরিশ্রমে এখন তার বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে আঙুরের থোকা। অল্প সময়েই এই বাগান এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শার্শায় আগে কখনো এমন আঙুর বাগান দেখা যায়নি। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন। অনেকেই আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষাবাদের স্বপ্ন দেখছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা ইমন হোসেন বলেন, “ইউটিউব দেখে সাহস পেয়েছি। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ করেছিল, কিন্তু এখন ফল দেখে সবাই অবাক। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। পাশাপাশি অন্য তরুণদেরও এ কাজে উৎসাহিত করতে চাই।”
[caption id="attachment_34344" align="alignnone" width="622"]
শার্শায় ইউটিউব দেখে প্রথমবার বাণিজ্যিক আঙুর চাষ, তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যে সাড়া || ছবি: মানবজীবন.কম[/caption]
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি অর্থবছরে উপজেলায় প্রায় ২ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রাশিয়ান বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন ফলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আঙুর চাষও এ অঞ্চলে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়ভাবে এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণদের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।