স্টাফ রিপোর্টার :
রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার আহবায়ক কমিটির সাথে সভা ব্যতিত আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করায় ১৯ এপ্রিল-২০২৬ তারিখ আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন একই কমিটির সদস্য।
লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু (৫৮), পিতা : দক্ষিণা রঞ্জন বড়ুয়া, মাতা : শোভা রাণী বড়ুয়া, সাং : কলেজ গেইট মন্ত্রী পাড়া, ডাকঘর : রাঙামাটি-৪৫০০, থানা : কোতয়ালী, জেলা : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা, বর্তমান : আহবায়ক, আহবায়ক কমিটি, রাঙামটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি, আসামবস্তী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা ও ধীমান বড়ুয়া (৫৭), পিতা : সুদর্শন বড়ুয়া, মাতা : আশা লতা বড়ুয়া, সাং: ৯৫০/৬, গৌর নিতাই আশ্রম, ডাকঘর : রাঙামাটি-৪৫০০, থানা : কোতয়ালী, জেলা : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা, বর্তমান : সদস্য সচিব, আহবায়ক কমিটি, রাঙামটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি, আসামবস্তী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলাকে সংগঠনের ডেকোরাম লঙ্গন করায় শ্যামল চৌধুরী, পিতা : পরিতোষ চৌধুরী, মাতা : শেফালী চৌধুরী, সাং: ট্রাইবেল অফিসার্স কলোনী, ০৩নং ওয়ার্ড, রাঙামাটি পৌরসভা, ডাকঘর : রাঙামাটি-৪৫০০, থানা : কোতয়ালী, জেলা : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা। বর্তমান : সদস্য, আহবায়ক কমিটি, রাঙামটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি এর পক্ষে আইনি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন রাঙামাটি জজ কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট কাজী মঈনুল ইসলাম।
আইনি নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙামটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু ও সদস্য সচিব। তারা উভয়ে আইনিভাবে লিগ্যাল নোটিশের মোকাবেলা করবেন বলে জানান।
লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে আরো জানা যায়, রাঙামাটি শহরের বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থে এই মর্মে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার ১৭ (সতের) বছর ধরে বিহার ও সংস্থার পরিচালনা কমিটির নাম দিয়ে জনৈক সনৎ কুমার বড়ুয়া (সভাপতি) ও জনৈক উদয়ন বড়ুয়া (সাধারণ সম্পাদক) পদে ক্ষমতা ক্ষুক্ষিগত করে ২ (দুই) প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মের নামে প্রায় ৮০ (আশি) লক্ষ টাকার অধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাঙামাটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গণঅভ্যুত্থানের পর তাহাদের কমিটি বাতিল করে পরিবর্তে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব হিসাবে তাদের দায়িত্ব ছিলো (১) রাঙামাটি শহরের বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি পরিবার থেকে ১জন করে সদস্য নিয়ে রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ পরিষদের ১টি ভোটার তালিকা প্রনয়ণ করা। (২) রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির নিকট আহবায়ক কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর করা। (৩) রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সকল উন্নয়ন কাজের এবং বিহারের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত ২০ (বিশ) মাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং আহবায়ক কমিটির সফলতা প্রাথমিক ভাবে আহবায়ক কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা। কমিটির আহবায়ক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু সদস্য সচিব ধীমান বড়ুয়া উভয়ে তা না করে গত ০৩/০৪/২০২৬ ইংরেজি তারিখ একটি কুচক্রি মহলের কাছে নতি স্বাীকার করে উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি আহবায়ক কমিটির সভা ব্যতিত তাদের ২জনের একক সিদ্ধান্তে রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সভা ব্যতিত আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করেছেন।
তারা উভয়ে রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার ডেকোরাম লঙ্গন করে রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার উপরের উল্লেখিত স্বার্থ সংরক্ষণ না করে উভয়ে রাঙামাটি বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার বিরুদ্ধে কাজ করায় স্বেচ্ছারিতার অভিযোগে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে না আগামী ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব জানানোর কথা বলা হয়েছে। এ দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ নোটিশ গ্রহীতার উপর বর্তাবে বলে বলা হয়।
অ্যাডভোকেট কাজী মঈনুল ইসলাম সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আমার নেরেস্তায় নোটিশের এক কপি সংরক্ষিত আছে।