বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সান্তাহার পোস্ট অফিসপাড়ার নূর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আবদুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), সান্তাহার পূর্ব লোকো কলোনির তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) এবং আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে সান্তাহার পূর্ব লোকো কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ২২ এপ্রিল পাশের বাড়ির এক কিশোরী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হলে, ওই ঘটনার জেরে আইয়ুব আলী ভুক্তভোগী দম্পতিকে সান্তাহার রেলগেট এলাকার একটি দোকানে ডেকে পাঠান। সেখানে নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
এসময় আসামি মিঠু হোসেন ও হৃদয় হোসেন দম্পতিকে মারধর করলে স্বামী ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে রুনা বেগম ভুক্তভোগীকে মারধর করে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই ঘরে ঢুকে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ ও আজান আলী নামে আরেক ব্যক্তি গৃহবধূকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যাওয়ার সময় কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ভুক্তভোগী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।