
মিরু হাসান, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় একদিকে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সচেতন মহলে মিলেছে ব্যাপক প্রশংসা। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দোষীদের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বাজার এলাকার শাহী মসজিদের পাশের একটি সরকারি পুকুরে কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কাটা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত মাটি পাশের একটি ইটভাটায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এতে পুকুরের স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের সড়কও ঝুঁকির মুখে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে, শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ পুকুরটিকে মসজিদের সম্পত্তি দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তবে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উক্ত জমিটি বশিপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। জমির মধ্যে মসজিদ, পুকুর, অজুখানা, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা থাকলেও কোনো বৈধ লিজ না থাকায় এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই বিবেচিত।
পরবর্তীতে পুকুরসংলগ্ন এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানার নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে এ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পর কিছু প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাদের ওপর চাপ, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, “সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় এমন পদক্ষেপই প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে সবাই সহযোগিতা করবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।##
Reporter Name 





















