
ইমদাদুল হক তৈয়ব
বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সামাজিক উন্নয়নের বহুমাত্রিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিশিষ্ট মরমী কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও নারী উন্নয়ন সংগঠক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু। সাহিত্যচর্চা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল ও ভূটানের সাহিত্যাঙ্গনে এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
রংপুরের এই কৃতি ব্যক্তিত্ব শুধু একজন লেখক নন; তিনি একজন সংগ্রামী সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, সমাজকর্মী, সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও সমানভাবে প্রশংসিত। বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ সৃজনধারায় যাঁরা নিজেদের কর্ম, মেধা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে সৈয়দা রুখসানা জামান শানু তাঁদেরই অন্যতম উত্তরসূরি।
নিজস্ব লেখনিশৈলী, সাংস্কৃতিক চেতনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন সমাজ-বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, তেমনি মানবিকতা, নারীর অগ্রযাত্রা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও উজ্জ্বল প্রকাশ দেখা যায়।
সম্প্রতি তিনি ভারতের সংবিধান প্রণেতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর নামে প্রবর্তিত “বাবা আম্বেদকার স্বর্ণ স্মৃতিপদক” অর্জন করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সাহিত্য ও সমাজসেবায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননাকে দেখছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা।
সাহিত্য সংগঠক হিসেবেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “রাইটার্স ওয়াল্ড” সংগঠনের মাধ্যমে অসংখ্য লেখক, কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে সম্মাননা, উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়ে আসছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার প্রসার এবং নতুন লেখকদের বিকাশে তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সেই ধারাবাহিকতায় গত একুশে ফেব্রুয়ারি শিশু কল্যাণ পরিষদে “আলোকিত নারী” বইয়ের জন্য সাহিত্য সংগঠক ও লেখক হিসেবে সম্মাননা পান ইমদাদুল হক তৈয়ব।
এ বিষয়ে ইমদাদুল হক তৈয়ব বলেন,
“সৈয়দা রুখসানা জামান শানু আপু একজন নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্য সংগঠক এবং সাদা মনের মানুষ। তিনি তাঁর কর্ম, মেধা ও মানবিকতা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে ‘আলোকিত নারী’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁকে সম্মানিত করতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তাঁকে যথাযথভাবে সম্মানিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি। সাহিত্য ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক অঙ্গনে নিবেদিত এই আলোকিত নারীর পথচলা আগামী দিনেও আরও সমৃদ্ধ ও সফল হোক—এমন প্রত্যাশা সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের।