মাগুরা, ১ এপ্রিল ২০২৬:
মাগুরার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন। এ পরিস্থিতিতে স্বামীদের কাজের চাপ কমাতে তেল নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন নারীরাও।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শহরের ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি নারীরাও জ্বালানি সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন।
সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার রোকসানা বেগমকে কোলে সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কৃষিকাজ করেন। তেল নিতে অনেক সময় লাগে, কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে নিজেই তেল নিতে এসেছি।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কুলছুম বেগম। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই এখন আমিই তেল সংগ্রহ করতে আসি, যাতে তিনি কৃষিকাজে মনোযোগ দিতে পারেন।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, কয়েকজন নারী তেল নিতে এসেছিলেন এবং তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মাহমুদ বলেন, “জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সংকটের আশঙ্কায় কৃষক ও যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ লাইনের অন্যতম কারণ।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি পাম্পে জেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।
জেলায় মোট ১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। বিশেষ করে কৃষকরা সেচযন্ত্র চালাতে ডিজেল সংগ্রহে বেশি ভিড় করছেন। অনেক কৃষকের মতে, চলমান ধান চাষে সেচের জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন। সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
Reporter Name 



















