
হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা এবং সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, নাঈমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু রায় নিশ্চিত করতে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় খতিয়ে দেখা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জমিয়ত নেতা ফারহাদ আহমদ বলেন, হাফিজ নাঈমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঢালাওভাবে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছুতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে জড়িয়ে কাদা ছোড়াছুড়ির এই মানসিকতা বর্জন করা উচিত।”
ফারহাদ আহমদ আরও স্পষ্ট করেন যে, হাফিজ নাঈম অতীতে একসময় ‘ছাত্র জমিয়ত’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে অন্য একটি সংগঠনে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন সেখানেই সক্রিয় ছিলেন। ফলে তাঁর পরবর্তী কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার জমিয়তের ওপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
অনুরূপ বক্তব্য দেন আরেক জমিয়ত নেতা এম শাকির আহমেদও। তিনি বলেন, “হাফিজ নাঈম একসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দল পরিবর্তন করেন। তাই তাঁর বর্তমান বা পরবর্তী কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে জমিয়তের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।”
আন্দোলনকারী নেতাদের মতে, এই মামলার অন্য আসামিরা খালাস পেলেও নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই মামলার প্রতিটি দিক ও প্রমাণ পুনরায় খতিয়ে দেখা উচিত বলে তারা দাবি করেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইস্যু নয়; বরং একজন নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।
প্রতিবাদকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে মামলার রায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। বর্তমানে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।