মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)
হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর আওতায় নদীর মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, রাউজানের আয়োজনে এবং মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহযোগিতায় শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে হালদা নদীর পাড়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হালদা পাহারার জন্য একটি স্পিডবোট দেওয়া হবে। তবে শুধু পাহারা দিলেই হবে না, হালদা পাড়ের মানুষকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে মিলে নদী রক্ষা করতে হবে। এই নদী রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদেরই।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন এমপি। তিনি বলেন, “হালদা শুধু চট্টগ্রামের নয়, সমগ্র দেশের গর্ব। নদী রক্ষার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে হালদা তীরবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা, সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে হালদা নদীর মৎস্যজীবী পরিবারের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয় এবং নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।