সাভার প্রতিনিধি
দর্শনা জয়নগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার হাফিজুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও আসহাবুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, এটি সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবে করা একটি হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার জয়নগরে বসবাস করছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তিনি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং ভারত-বাংলাদেশভিত্তিক একটি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ, রূপা ও মাদক ব্যবসার অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাচারের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৮ সালের দিকে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তার সম্পদের উৎস এবং সীমান্ত এলাকায় তার প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক আজকের বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে অনুসন্ধানমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তাকে ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এ ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং সেই হুমকির কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
পুলিশ জিডির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে সমন জারি করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের অভিযোগ, সমন জারির পর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক ফেক আইডি ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে জাহাঙ্গীর হোসেন চুয়াডাঙ্গার আদালতে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানা, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও আসহাবুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওপর অর্পণ করেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দাবি করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভারতে যেতে সহায়তা এবং হুন্ডি লেনদেনের অভিযোগে জাহাঙ্গীরের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।