রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে কৃষকদের কাছে সহজে ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে সরকার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সার বিতরণ নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ২০০৯ সালের নীতিমালার পরিবর্তে ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় কৃষকের সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০০৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের ইউরিয়া সার ও নন-ইউরিয়া সার আলাদা আলাদা ডিলারের কাছ থেকে কিনতে হতো। ফলে কৃষকদের একাধিক ডিলারের কাছে যেতে হতো এবং এতে ভোগান্তি বাড়ত। কিন্তু ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালায় একজন ডিলারের কাছ থেকেই সব ধরনের সার পাওয়া যাবে, যা কৃষকদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগের নীতিমালায় অনেক ক্ষেত্রে খুচরা ডিলাররা সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করতেন না। অভিযোগ ছিল, কিছু ডিলার সিন্ডিকেট করে সার কেনাবেচা করতেন। তবে ২০২৫ সালের নীতিমালায় ডিলারদের সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২০০৯ সালের নীতিমালায় ডিলারদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিট নির্ধারণ করা ছিল না। ফলে অনেক সময় ডিলাররা কৃষকদের অন্য ডিলারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু ২০২৫ সালের নীতিমালায় ডিলারদের নির্দিষ্ট ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কৃষকরা তাদের নিজ নিজ ইউনিটের ডিলারের কাছ থেকেই সহজে সার সংগ্রহ করতে পারবেন।
এছাড়া পূর্বের নীতিমালায় অনেক সময় ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে কৃষকদের বলতেন যে সার শেষ হয়ে গেছে। নতুন নীতিমালায় ডিলারদের কৃষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ফলে কৃষকদের কাছে সরাসরি সার পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০০৯ সালের নীতিমালায় ডিলারদের গুদামে কত সার মজুদ আছে তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু ২০২৫ সালের নীতিমালায় প্রতিদিন ডিলারদের গুদামে থাকা সারের মজুদের তথ্য প্রকাশ করে তা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো শাস্তির বিধান। আগের নীতিমালায় অনিয়ম করলে ডিলারদের জন্য শাস্তির বিধান তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু নতুন নীতিমালায় অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া ২০০৯ সালের নীতিমালায় ডিলারের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। নতুন নীতিমালায় প্রত্যেক ইউনিয়নে তিনজন করে ডিলার এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে বিক্রয় কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কৃষকরা বাড়ির কাছেই সার কিনতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কৃষকরা সহজে সরকারি দামে সার পেতে সক্ষম হবেন। ফলে নতুন নীতিমালা কৃষি ও কৃষকদের জন্য আরও বেশি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।