Dhaka ০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ডুমুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: ব্যাহত হচ্ছে সেচ ও শিক্ষা বাগমনিরাম স্কুলে চলছে প্রকাশ্যে ডাকাতি কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে টহল নৌ-পুলিশের সন্ত্রাসীদের হামলা, ওসিসহ আহত-০৫ কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন ভোরের টহলে ধরা পড়ল দস্যুতার প্রস্তুতি, কিশোরগঞ্জে যুবক গ্রেফতার সাবরাংয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ যুবক, খোঁজে পরিবারের আকুতি টেকনাফ র‍্যাব-বিজিবির পৃথক অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযান৩৬ কেজি গাঁজাসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার রাজশাহীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্পেন সরকার পাঁচ লাখ অভিবাসীকে স্বীকৃতি

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ Time View

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


স্পেন সরকার দেশটিতে অবস্থানরত নথিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার গত মঙ্গলবার এই কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।খবরটি দিয়েছে আল–জাজিরা।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো স্পেনেও অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্পেন সরকারের এই উদ্যোগ দেশটিকে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তবে সানচেজ সরকারের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিরোধিতাও সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি কিছু কর্মকর্তার মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের জন্য ডিক্রি জারির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে আইনসভাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে ‘সাধারণ ক্ষমা’ সংক্রান্ত একটি বিল আইনসভায় পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।
স্পেনের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আবেদনের জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং কমপক্ষে পাঁচ মাস বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। এছাড়া কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হবে, তাঁরা এক বছর পর স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

স্পেনের জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের হার বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই সমস্যার সমাধানে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে চান। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ।
তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এই উদ্যোগকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ বলে সমালোচনা করেছেন। যদিও এই মধ্য ডানপন্থী দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে চলতি শতকের শুরুতে দুবার একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী প্রচার মঞ্চে--সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার আল-জাজিরার এক ভিডিওতে বার্সেলোনায় বাংলাদেশিদের আনন্দ উদ্যাপন করতে দেখা যায়। বৈধতার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশি অভিবাসী মুরুল ওয়াইদ আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার জায়গা নেই—জীবন খুবই কঠিন। তাই বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সবাই এখন খুব খুশি।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ডুমুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: ব্যাহত হচ্ছে সেচ ও শিক্ষা

স্পেন সরকার পাঁচ লাখ অভিবাসীকে স্বীকৃতি

সময়: ০৮:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


স্পেন সরকার দেশটিতে অবস্থানরত নথিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার গত মঙ্গলবার এই কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।খবরটি দিয়েছে আল–জাজিরা।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো স্পেনেও অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্পেন সরকারের এই উদ্যোগ দেশটিকে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তবে সানচেজ সরকারের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিরোধিতাও সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি কিছু কর্মকর্তার মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের জন্য ডিক্রি জারির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে আইনসভাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে ‘সাধারণ ক্ষমা’ সংক্রান্ত একটি বিল আইনসভায় পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।
স্পেনের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আবেদনের জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং কমপক্ষে পাঁচ মাস বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। এছাড়া কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হবে, তাঁরা এক বছর পর স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

স্পেনের জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের হার বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই সমস্যার সমাধানে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে চান। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ।
তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এই উদ্যোগকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ বলে সমালোচনা করেছেন। যদিও এই মধ্য ডানপন্থী দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে চলতি শতকের শুরুতে দুবার একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  ‘নাইচা’র এমপ্লয়ি এনগেজমেন্ট’ বিভাগ থেকে “বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন এ্যাট নাইচা”-কে দাপ্তরিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার আল-জাজিরার এক ভিডিওতে বার্সেলোনায় বাংলাদেশিদের আনন্দ উদ্যাপন করতে দেখা যায়। বৈধতার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশি অভিবাসী মুরুল ওয়াইদ আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার জায়গা নেই—জীবন খুবই কঠিন। তাই বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সবাই এখন খুব খুশি।