
স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছোট ছনুয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে মোস্তাক আহমদ (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা অভিযান শেষে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট ছনুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সরদারপাড়ার একটি মুদির ঝুপড়ি দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন মোস্তাক আহমদ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করলেও দোকানটিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে গোপনে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করতেন। এতে আশপাশের এলাকার যুবসমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার বাড়ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বাঁশখালী থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
অভিযানকারী দলকে দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে সরদারপাড়ার ওই ঝুপড়ি দোকানে পৌঁছাতে হয়। সেখানে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে মোস্তাক আহমদ দোকান থেকে মাদক সরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
এরপর মোবাইল কোর্ট টিম পুরো এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ছোট ছনুয়ার মনু মিয়াজীর বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক করার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে তার লুঙ্গির কোচড় থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করা দশটিরও বেশি গাঁজা ভর্তি কাগজের পুঁটুলি উদ্ধার করা হয়।
মনু মিয়াজীর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মোস্তাক আহমদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ ছিল।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে মোবাইল কোর্ট তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন অভিযানে তারা স্বস্তি পেয়েছেন এবং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 

























