Dhaka ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আত্মহত্যার চেষ্টার পর মারা গেলেন বগুড়ার এএসআই রবিউল ইসলাম জাল প্রাপ্যতা শিট কাণ্ডে কাস্টমস প্রোগ্রামার আতিকুরের বেতন কমলো দুই ধাপ ডিমলার নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা মাদক কারবারিদের আতঙ্কে মাদকবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা আদিতমারীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও সেবা সহজীকরণে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ — সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রণি গৌরীপুরে অপকর্মের অভিযোগে আলোচনায় মতিউর রহমান আপোষ-মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ডিএসবি সদস্য ক্লোজড মরহুম আজাদ ফারুক আহমেদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত তেতুলিয়ায় শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রৌমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ছেলের নামে ইজারা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৪ Time View

মোঃ মাইদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রৌমারী পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক-এর ছেলে শাকিল আহমেদের নামে ইজারা নেওয়া হাটে কোরবানির পশু বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সোমবার ও শুক্রবারের দুই হাটবারেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২২ মে) অনুষ্ঠিত হাটে গরুপ্রতি সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরু, মহিষ ও ঘোড়ার হাসিল ৫০০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার হাসিল ২৫০ টাকা নির্ধারিত। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, রৌমারী হাটে গরু-মহিষে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রমাণ গোপন করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ফাঁকা রশিদ দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া হাটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক সম্মতিতেই বাড়তি হাসিল আদায় করা হচ্ছে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিকরা বিষয়টি উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন গরু-মহিষে ৭০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায়ের মৌখিক অনুমতি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরবর্তীতে ইজারাদার পক্ষ আরও বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসন অভিযানে এলে কিছু সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ থাকে। তারা চলে গেলে আবার আগের মতোই আদায় শুরু হয়।”

আরও পড়ুনঃ  কি অপরাধ ছিল, আমার ছোট মেযেটার?

উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সরকারি হাসিল ২৫০ টাকা হলেও আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”

আরেক ক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “৫০০ টাকার হাসিল ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।”

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গরুর হাসিল ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, ৮০০ নয়। কেউ বেশি নেওয়ার প্রমাণ দিতে পারবে না।”

ফাঁকা রশিদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জেলার অন্য হাটেও খোঁজ নেন। আমরা বেশি টাকা নিচ্ছি না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত হারেই হাসিল আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাসিল বেশি আদায়ের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধ না হলে সমস্যা তৈরি হবে বলে ইউএনওকে জানিয়েছি।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আত্মহত্যার চেষ্টার পর মারা গেলেন বগুড়ার এএসআই রবিউল ইসলাম

রৌমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ছেলের নামে ইজারা

সময়: ১১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মোঃ মাইদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রৌমারী পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক-এর ছেলে শাকিল আহমেদের নামে ইজারা নেওয়া হাটে কোরবানির পশু বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সোমবার ও শুক্রবারের দুই হাটবারেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২২ মে) অনুষ্ঠিত হাটে গরুপ্রতি সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরু, মহিষ ও ঘোড়ার হাসিল ৫০০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার হাসিল ২৫০ টাকা নির্ধারিত। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, রৌমারী হাটে গরু-মহিষে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রমাণ গোপন করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ফাঁকা রশিদ দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া হাটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক সম্মতিতেই বাড়তি হাসিল আদায় করা হচ্ছে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিকরা বিষয়টি উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন গরু-মহিষে ৭০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায়ের মৌখিক অনুমতি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরবর্তীতে ইজারাদার পক্ষ আরও বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসন অভিযানে এলে কিছু সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ থাকে। তারা চলে গেলে আবার আগের মতোই আদায় শুরু হয়।”

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সরঞ্জামসহ ২৫১টি সিমকার্ড জব্দ

উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সরকারি হাসিল ২৫০ টাকা হলেও আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”

আরেক ক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “৫০০ টাকার হাসিল ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।”

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গরুর হাসিল ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, ৮০০ নয়। কেউ বেশি নেওয়ার প্রমাণ দিতে পারবে না।”

ফাঁকা রশিদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জেলার অন্য হাটেও খোঁজ নেন। আমরা বেশি টাকা নিচ্ছি না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত হারেই হাসিল আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাসিল বেশি আদায়ের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধ না হলে সমস্যা তৈরি হবে বলে ইউএনওকে জানিয়েছি।”