Dhaka ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা-২০২৬-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া মাহফিল দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের সম্পৃক্ত করতে হবে: চরমোনাই পীর তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় পাইলটসহ সৌদির ৩ নাগরিক নিহত সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা কুমিল্লায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল আসামি আটক রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান তাহিরপুরে কলেজছাত্রীকে কক্ষে আটকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, বিচার নিয়ে কালক্ষেপণ মাগুরায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ছেলের পড়াশোনা ঢাকায়, তবুও কিশোরগঞ্জের স্কুল কমিটিতে বাবা! নিয়ম ভেঙে বিতর্কিত নিয়োগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ সদরের ঐতিহ্যবাহী আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়-এর পরিচালনা কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে এমন এক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সন্তান বহু আগেই ওই বিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকায় পড়াশোনা করছে! এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা একে সরাসরি “নিয়ম লঙ্ঘন ও শিক্ষাঙ্গনে প্রতারণা” বলে অভিহিত করেছেন।

‘অভিভাবক’ শুধু কাগজে, বাস্তবে নয়

বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপেল হাসান চৌধুরী সম্প্রতি অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। অথচ তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), ঢাকা-তে অধ্যয়নরত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে ছেলেটি আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও দ্রুতই ঢাকায় স্থানান্তর হয়।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ত্যাগের বিষয়টি আধিকারিকভাবে রেকর্ডে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে এখনো তিনি ‘অভিভাবক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, যদিও বাস্তবে স্কুলের সঙ্গে তার সন্তানের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মের প্রকাশ্য অমান্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, অভিভাবক প্রতিনিধি হতে হলে সন্তানের সেই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকা এবং বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও শ্রেণি তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। এই ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি লঙ্ঘন করে কমিটিতে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের ক্ষোভ

একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন:

> “যার ছেলে ঢাকায় পড়ে, সে কিভাবে আমাদের স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি হয়? এটা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রকাশ্য প্রতারণা।”

আরেকজন অভিভাবক জানান:

> “আমরা সন্তানদের এই স্কুলে পড়াই, অথচ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এমন একজন, যার সন্তানের স্কুলের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই—এটা চরম অন্যায়।”

 

তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি

সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি, এই অনিয়মের তদন্ত করে বিতর্কিত সদস্যপদ বাতিল এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
তারা জেলা শিক্ষা অফিসকে অনুরোধ জানিয়েছেন, “যারা নিয়ম ভেঙে পদ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।”

আরও পড়ুনঃ  দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে শঙ্কা

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, একজন অবৈধ সদস্যের উপস্থিতি পুরো কমিটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও মানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা-২০২৬-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া মাহফিল

ছেলের পড়াশোনা ঢাকায়, তবুও কিশোরগঞ্জের স্কুল কমিটিতে বাবা! নিয়ম ভেঙে বিতর্কিত নিয়োগ

সময়: ১১:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ সদরের ঐতিহ্যবাহী আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়-এর পরিচালনা কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে এমন এক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সন্তান বহু আগেই ওই বিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকায় পড়াশোনা করছে! এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা একে সরাসরি “নিয়ম লঙ্ঘন ও শিক্ষাঙ্গনে প্রতারণা” বলে অভিহিত করেছেন।

‘অভিভাবক’ শুধু কাগজে, বাস্তবে নয়

বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপেল হাসান চৌধুরী সম্প্রতি অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। অথচ তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), ঢাকা-তে অধ্যয়নরত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে ছেলেটি আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও দ্রুতই ঢাকায় স্থানান্তর হয়।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ত্যাগের বিষয়টি আধিকারিকভাবে রেকর্ডে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে এখনো তিনি ‘অভিভাবক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, যদিও বাস্তবে স্কুলের সঙ্গে তার সন্তানের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মের প্রকাশ্য অমান্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, অভিভাবক প্রতিনিধি হতে হলে সন্তানের সেই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকা এবং বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও শ্রেণি তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। এই ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি লঙ্ঘন করে কমিটিতে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের ক্ষোভ

একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন:

> “যার ছেলে ঢাকায় পড়ে, সে কিভাবে আমাদের স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি হয়? এটা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রকাশ্য প্রতারণা।”

আরেকজন অভিভাবক জানান:

> “আমরা সন্তানদের এই স্কুলে পড়াই, অথচ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এমন একজন, যার সন্তানের স্কুলের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই—এটা চরম অন্যায়।”

 

তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি

সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি, এই অনিয়মের তদন্ত করে বিতর্কিত সদস্যপদ বাতিল এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
তারা জেলা শিক্ষা অফিসকে অনুরোধ জানিয়েছেন, “যারা নিয়ম ভেঙে পদ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।”

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল আসামি আটক

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে শঙ্কা

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, একজন অবৈধ সদস্যের উপস্থিতি পুরো কমিটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও মানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।