
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক বেশ কয়েকটি ফেইক (ভুয়া) আইডি খুলে নানা অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে। মানহানীকর অপ-প্রচারে এমন হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। যে কারনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা,ইউপি-চেয়ারম্যান,সামাজিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব,সমাজসেবক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ অনেকটাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের পাশাপাশি সাবেক ভাইচ চেয়ারম্যানের ভাতিজা বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মাইদুল আখঞ্জি ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক সমাজসেবক (বিএ স্নাতক) গোলাম মৌলা। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়রী করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব অপ-প্রচারকারী নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্তের পর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্ততি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় জুলাই-আগষ্টের পর সমাজসেবক,ব্যবসায়ি,প্রশাসনিক কর্মকর্তা,স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,চেয়ারম্যান পরিবার সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে“সুনামগঞ্জের সাহসী কন্ঠ,তাহিরপুরের খবর”
সহ একাধিক ফেইসবুক ভুয়া (ফেইক) আইডিতে মাইদুল আখঞ্জি ও গোলাম মৌলার চালানো হচ্ছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, একাধিক শুল্ক স্টেশন ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী মহলের নজরে। আর এই সুযোগকে কেন্দ্র করেই বিগত ১৭ বছর এখানে গড়ে উঠেছিলো একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট-যার অন্যতম আলোচিত নাম তরং গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফ্যাসিস্ট ভারতীয় বুঙ্গা ব্যবসায়ি
রণিক মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য রনজিত সরকারের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে রণিক মিয়া তাহিরপুরে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। দুর্নীতিবাজ সংসদ সদস্য রনজিত সরকারের ছত্রছায়ায় অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী এক ব্যক্তি রণিক মিয়া।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে পাটলাই নদীতে চাদাবাজি করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ওঠেন রণিক মিয়া। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাহিরপুর উপজেলার তরং গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে রণিক মিয়া তাহিরপুর শ্রীপুর খাস কালেকশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম,অতিরিক্ত টুল আদায় ও চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রতি ৫০ টন কয়লা ও চুনাপাথরের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। এসব চাঁদার রশিদে কোনোটাতেই বহি নম্বর থাকতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে পাটলাই নদীপথে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ স্টিলবডি বাল্কহেড নৌকা কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার সময় এসব নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রণিক মিয়া সহ ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে।
অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ি,সমাজসেবক,প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই সকল আইডি থেকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ, অপমানজনক ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফেইক আইডি’র বিরুদ্ধে সাধারন ডায়রী করারও প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। থানা পুলিশ বলছে, এসব আইডি সনাক্ত করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) স্পেশাল ব্রাঞ্চের (আইটি শাখা) কাজ করছে। সময় বেশী লাগলেও এসব ফেইক আইডি সনাক্ত করা যাবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবক গোলাম মৌলা বলেন,বেশ কয়েকদিন ধরেই কয়েকটি ভুয়া আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র তাদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ার কারণে এসব করছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এই ফেইক আইডি সামাজিক অস্তুুষ সৃষ্টি করতে পারে,এটাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অপপ্রচারকারি নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের ফেইক আইডি সনাক্ত হলেই সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করবো। পরিশেষে ঐ অপ-প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মাইদুল আখঞ্জি বলেন,বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছি দুটি ফেইসবুক ফেইক আইডিতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
যা একেবারে সত্য নয়,ভিত্তিহীন। এসব অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম বলেন,ইদানিং দেখছি ফেক আইডিতে ব্যবসায়ি,সমাজসেবক,প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান,রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইডি সনাক্ত করা গেলে পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতিকারীকে আইনের আওতায় আনা অনেকটাই সহজ হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন,এখন পর্যন্ত যে বা যাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reporter Name 






















