Dhaka ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
২০০ শয্যা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাব,ক্ষোভে ফুঁসছে রংপুর বিভাগ রংপুরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ২, আহত ৩ শ্রমিক নরসিংদীর শিবপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস র‍্যালি ও আলোচনা সভা বিশ্বম্ভরপুরে নানা আয়োজনে শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপন” নতুন ভিসি অবরুদ্ধ, চুয়েটের ২১ দিনের ছাত্র আন্দোলনের নতুন সংকট গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত গলাচিপায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সান্তাহারে কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির হুমকি- ইউএনও ও থানায় অভিযোগ!! সরিষাবাড়িতে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবসে র ্যালি মহহড়া ও আলোচনা সভা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পরিশুদ্ধতা নিয়ত না করার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই

 

পরিশুদ্ধতা নিয়ত না করার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পরিশুদ্বতা নিয়ত না থাকার কারণে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাই। দুনিয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হই ও পরকালেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। যেমন অনেকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়, চাকরি নেওয়ার পরে সেইও ঘুষ নেওয়া আরম্ভ করে। সেই ঘুষ খেতে খেতে একদরনের নেশাগ্রস্ত ঘুষখোর হয়ে যায়। সেই দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভিতরে যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতো তাহলে তারা এই সব অন্যায় কাজ করতো না। যাদের ভিতরে পরিশুদ্ধতা নিয়ত আছে তারা দুনিয়াতেও সফল এবং আখিরাতেও সফল। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, লোকেরা হাশরে নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯)।

 

 

নিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ ইচ্ছা, সংকল্প, মনোবাসনা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তার নির্দেশ পালনার্থে কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে। ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়ত হলো ইবাদতের মূল। নিয়ত ছাড়া ইবাদাত পরিশুদ্ধতা হয় না। রাসূল (সা.) বলেন, প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়ত অনুসারে হয়। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১) আল্লাহ বলেন, বল: প্রত্যেকে তার নিজ নিজ নিয়ত অনুসারে কাজ করে। কিন্তু তোমার রাব্ব ভাল করে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল পথে আছে। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৮৪) ভাল মন্দ কল্যণ ও অকল্যাণ কাজ সব কিছু নিয়তের উপর নির্ভশীল। মানুষের জীবন জীবিকা, চলাপেরা কর্ম, আর্দশ নীতি ইচ্ছা সব কিছু নিয়তের উপর নির্ভশীল।

 

 

নামাজ রোজা হজ যাকাতসহ যত ধরনের ইবাদাত আছে, এই সব ইবাদাত কবুলের জন্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত না থাকে তাহলে এই সব ইবাদাত কবুল হবে না। আল্লাহ বলেন: বল (আমার এই কথা) হে আমার মু’মিন বান্দারা! তোমরা তোমাদের রাব্বাকে ভয় কর। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। প্রশস্ত আল্লাহর পৃথিবী, ধৈর্যশীলদেরকে অপরিমিত পুরষ্কার দেয়া হবে। বল আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্য একনিষ্ঠ হয়ে তার ইবাদাত করতে। আর আদিষ্ট হয়েছি, আমি যেন আত্মা-সমর্পনকারীদের অগ্রণী হই। (সূরা আয্ যুমার, আয়াত: ১০,১১,১২) যারা দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা ইবাদাত করে তাদের জন্য পরকালে রয়েছে পুরষ্কার। যারা দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল। দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা নিয়ত করে ইবাদাত করলে ইহজগত ও পরজগত উভয় জায়গায়ই কল্যাণ রয়েছে। ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য আল্লাহর আনুগত্যে ও পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। তাহলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাকওয়া ভিরু হওয়া যাবে।

আরও পড়ুনঃ  সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

 

 

ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যবসা করা নবীজীর সুন্নাত ও ইবাদাত। ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা যায়। হালাল ব্যবসা করার জন্য অবশ্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে, তাহলে ব্যবসার মাধ্যমে ইবাদাত কবুল হবে। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সততা ও আমানতদারির সঙ্গে মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ইবাদাতে পরিণত হবে। পরিশুদ্ধতা নিয়ত করে যদি হালাল ব্যবসা করে তাহলে অবশ্য পরকালে পুরষ্কার রয়েছে। আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিজি, হাদিস নং ১২০৯) । বর্তমানে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ও ওজনে কম দেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছ গোস্ত শাক সবজি ও রড সহ বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ওজনে কম দিচ্ছে ও বেশী মূল্য নিচ্ছে। কারণ তাদের নিয়ত পরিশুদ্ধতা নাই, এবং তাদের ভিতরে পরকালের ভয় নাই। আল্লাহ বলেন: মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, (সূরা মুত্বাফফিফীন, আয়াত:১) এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য পরকালে অনেক দুঃখ কষ্ট ও অনেক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। পরকালে তাদের পরিণাম হবে খুব ভয়াবহ।

 

 

দান খয়রাত। আমাদের সমাজে দেখা যায়, মসজিদ মাদরাসা এতিমখানা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দান খয়রাত করে অন্যদের কে দেখানোর জন্য। কেই আবার দান খয়রাত করে নিজেকে সম্মানি মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। অনেকে দান খয়রাত করে ছবি তুলে ফেইজবুকে দেয় এবং ফেইজবুকের মাধ্যমে সবাইকে দেখায়। রাস্তায় কোন গরীব মানুষকে এক বেলা খাওয়ালে সেটাই ছবি তুলে ফেইজবুকে দেয়। মানুষদের কে দেখানো কোন ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। প্রিয় নবীজী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) দেখিয়ে দিবেন। (সহী বুখারী, হাদিস নং ৬৪৯৯) দান খয়রাত করা হলো ইবাদাত, আর এই ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। আল্লাহকে দেখানো ও তাকওয়া অর্জনের জন্য যদি দান খয়রাত করা হয় তাহলে অবশ্য এই ইবাদাত কবুল হবে।

আরও পড়ুনঃ  দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

 

দানকারীদের নিয়ত যদি আল্লাহ ও রাসূলের জন্য হয় তাহলে আখিরাতে রয়েছে পুরষ্কার। আল্লাহ বলেন: যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের পুরষ্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা। (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ২৭৪)

লেখক: গবেষক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

২০০ শয্যা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাব,ক্ষোভে ফুঁসছে রংপুর বিভাগ

পরিশুদ্ধতা নিয়ত না করার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই

সময়: ০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

 

পরিশুদ্ধতা নিয়ত না করার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পরিশুদ্বতা নিয়ত না থাকার কারণে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাই। দুনিয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হই ও পরকালেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। যেমন অনেকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়, চাকরি নেওয়ার পরে সেইও ঘুষ নেওয়া আরম্ভ করে। সেই ঘুষ খেতে খেতে একদরনের নেশাগ্রস্ত ঘুষখোর হয়ে যায়। সেই দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভিতরে যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতো তাহলে তারা এই সব অন্যায় কাজ করতো না। যাদের ভিতরে পরিশুদ্ধতা নিয়ত আছে তারা দুনিয়াতেও সফল এবং আখিরাতেও সফল। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, লোকেরা হাশরে নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯)।

 

 

নিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ ইচ্ছা, সংকল্প, মনোবাসনা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তার নির্দেশ পালনার্থে কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে। ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়ত হলো ইবাদতের মূল। নিয়ত ছাড়া ইবাদাত পরিশুদ্ধতা হয় না। রাসূল (সা.) বলেন, প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়ত অনুসারে হয়। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১) আল্লাহ বলেন, বল: প্রত্যেকে তার নিজ নিজ নিয়ত অনুসারে কাজ করে। কিন্তু তোমার রাব্ব ভাল করে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল পথে আছে। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৮৪) ভাল মন্দ কল্যণ ও অকল্যাণ কাজ সব কিছু নিয়তের উপর নির্ভশীল। মানুষের জীবন জীবিকা, চলাপেরা কর্ম, আর্দশ নীতি ইচ্ছা সব কিছু নিয়তের উপর নির্ভশীল।

 

 

নামাজ রোজা হজ যাকাতসহ যত ধরনের ইবাদাত আছে, এই সব ইবাদাত কবুলের জন্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। যদি পরিশুদ্ধতা নিয়ত না থাকে তাহলে এই সব ইবাদাত কবুল হবে না। আল্লাহ বলেন: বল (আমার এই কথা) হে আমার মু’মিন বান্দারা! তোমরা তোমাদের রাব্বাকে ভয় কর। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। প্রশস্ত আল্লাহর পৃথিবী, ধৈর্যশীলদেরকে অপরিমিত পুরষ্কার দেয়া হবে। বল আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্য একনিষ্ঠ হয়ে তার ইবাদাত করতে। আর আদিষ্ট হয়েছি, আমি যেন আত্মা-সমর্পনকারীদের অগ্রণী হই। (সূরা আয্ যুমার, আয়াত: ১০,১১,১২) যারা দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা ইবাদাত করে তাদের জন্য পরকালে রয়েছে পুরষ্কার। যারা দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল। দুনিয়াতে পরিশুদ্ধতা নিয়ত করে ইবাদাত করলে ইহজগত ও পরজগত উভয় জায়গায়ই কল্যাণ রয়েছে। ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য আল্লাহর আনুগত্যে ও পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। তাহলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাকওয়া ভিরু হওয়া যাবে।

আরও পড়ুনঃ  সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

 

 

ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যবসা করা নবীজীর সুন্নাত ও ইবাদাত। ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা যায়। হালাল ব্যবসা করার জন্য অবশ্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে, তাহলে ব্যবসার মাধ্যমে ইবাদাত কবুল হবে। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সততা ও আমানতদারির সঙ্গে মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ইবাদাতে পরিণত হবে। পরিশুদ্ধতা নিয়ত করে যদি হালাল ব্যবসা করে তাহলে অবশ্য পরকালে পুরষ্কার রয়েছে। আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিজি, হাদিস নং ১২০৯) । বর্তমানে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ও ওজনে কম দেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছ গোস্ত শাক সবজি ও রড সহ বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ওজনে কম দিচ্ছে ও বেশী মূল্য নিচ্ছে। কারণ তাদের নিয়ত পরিশুদ্ধতা নাই, এবং তাদের ভিতরে পরকালের ভয় নাই। আল্লাহ বলেন: মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, (সূরা মুত্বাফফিফীন, আয়াত:১) এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য পরকালে অনেক দুঃখ কষ্ট ও অনেক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। পরকালে তাদের পরিণাম হবে খুব ভয়াবহ।

 

 

দান খয়রাত। আমাদের সমাজে দেখা যায়, মসজিদ মাদরাসা এতিমখানা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দান খয়রাত করে অন্যদের কে দেখানোর জন্য। কেই আবার দান খয়রাত করে নিজেকে সম্মানি মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। অনেকে দান খয়রাত করে ছবি তুলে ফেইজবুকে দেয় এবং ফেইজবুকের মাধ্যমে সবাইকে দেখায়। রাস্তায় কোন গরীব মানুষকে এক বেলা খাওয়ালে সেটাই ছবি তুলে ফেইজবুকে দেয়। মানুষদের কে দেখানো কোন ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। প্রিয় নবীজী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) দেখিয়ে দিবেন। (সহী বুখারী, হাদিস নং ৬৪৯৯) দান খয়রাত করা হলো ইবাদাত, আর এই ইবাদাত কবুলের জন্য অবশ্য পরিশুদ্ধতা নিয়ত থাকতে হবে। আল্লাহকে দেখানো ও তাকওয়া অর্জনের জন্য যদি দান খয়রাত করা হয় তাহলে অবশ্য এই ইবাদাত কবুল হবে।

আরও পড়ুনঃ  আমি তোমার জম মালাকুল মউত আজরাইল

 

দানকারীদের নিয়ত যদি আল্লাহ ও রাসূলের জন্য হয় তাহলে আখিরাতে রয়েছে পুরষ্কার। আল্লাহ বলেন: যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের পুরষ্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা। (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ২৭৪)

লেখক: গবেষক।