Dhaka ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নড়াগাতীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ পালানো আসামি গ্রেপ্তার সরিষাবাড়ীতে আ.মু.জা’র তাহরীকে জাদীদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত আজিজনগরে শ্রমিক দলের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, নেতৃত্বে সেলিম-হামিদ-শুক্কুর ছোটদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় শেষ হলো ‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ কালীগঞ্জে অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: এমপি নুরুল ইসলাম রাজবাড়ীতে কৃষক নজরুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ইসলামে সদকা বা দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম নবীনগরে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, উৎপাদক হতে হবে বাংলাদেশকে

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ Time View

 

বাংলাদেশকে শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে নয়, নিজস্ব উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে প্রযুক্তির উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর নকশা, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গবেষণার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। এখন প্রয়োজন এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কার্যকর প্রযুক্তিব্যবস্থা গড়ে তোলা।

‘নিজস্ব সমস্যার বাংলাদেশি সমাধান’

তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসা করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, তারা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ না করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বিদেশি প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ নয়; বরং দেশের নিজস্ব সমস্যার বাংলাদেশি সমাধান।

সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময়, সাশ্রয়ী সংযোগ ও ডিজিটাল জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  কেমো থেরাপির চতুর্থ মাসে তানিয়া বৃষ্টি, কাজে ফেরার প্রস্তুতি

উদ্ভাবন থেকে শিল্পে যেতে সহায়তার আশ্বাস

তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পুরস্কার তাদের যাত্রার শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একটি প্রাথমিক উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পণ্যে এবং সেই পণ্যকে শিল্পে রূপ দিতে গবেষণা, মূলধন বিনিয়োগ ও যথাযথ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন।

এসব ক্ষেত্রে সরকার তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

৪৪ উদ্ভাবন পেল স্বীকৃতি

এবারের ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’-এ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৩৫৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা পড়ে। দুই দিনের মূল্যায়ন শেষে এর মধ্যে ৪৪টি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সরকারি প্রশাসন ও স্টার্টআপ খাতের ৪০ জন বিচারক প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। পুরস্কারের মধ্যে ৯টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর। এ সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বিআইআইএনের নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দ্দৌলা মতিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নড়াগাতীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ পালানো আসামি গ্রেপ্তার

বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, উৎপাদক হতে হবে বাংলাদেশকে

সময়: ০৮:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

বাংলাদেশকে শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে নয়, নিজস্ব উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে প্রযুক্তির উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর নকশা, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গবেষণার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। এখন প্রয়োজন এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কার্যকর প্রযুক্তিব্যবস্থা গড়ে তোলা।

‘নিজস্ব সমস্যার বাংলাদেশি সমাধান’

তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসা করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, তারা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ না করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বিদেশি প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ নয়; বরং দেশের নিজস্ব সমস্যার বাংলাদেশি সমাধান।

সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময়, সাশ্রয়ী সংযোগ ও ডিজিটাল জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি প্রায় ১ হাজার

উদ্ভাবন থেকে শিল্পে যেতে সহায়তার আশ্বাস

তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পুরস্কার তাদের যাত্রার শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একটি প্রাথমিক উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পণ্যে এবং সেই পণ্যকে শিল্পে রূপ দিতে গবেষণা, মূলধন বিনিয়োগ ও যথাযথ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন।

এসব ক্ষেত্রে সরকার তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

৪৪ উদ্ভাবন পেল স্বীকৃতি

এবারের ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’-এ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৩৫৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা পড়ে। দুই দিনের মূল্যায়ন শেষে এর মধ্যে ৪৪টি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সরকারি প্রশাসন ও স্টার্টআপ খাতের ৪০ জন বিচারক প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। পুরস্কারের মধ্যে ৯টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর। এ সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বিআইআইএনের নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দ্দৌলা মতিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।