Dhaka ০৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
দিনাজপুর বীরগঞ্জে তান্ত্রিক কবিরাজ কে মারপিট এবং প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা রুহিয়ায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রংপুরে মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী পলাশবাড়ীতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন ও জমি দখলের অভিযোগ তাহিরপুরে খাল ইজারার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন শিবপুরে গভীর রাত পর্যন্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও চরভদ্রাসনে ৭ পিস কথিত ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার আদমদীঘিতে সাইবার সুরক্ষা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেফতার! কুইন্স লাইব্রেরিতে লেখকের অঙ্গনের ৩০তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বিদেশে থাকা কর্মচারীর নামে বদলি ও বেতন উত্তোলন : প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিয়ে সুনামগঞ্জে প্রশ্নের ঝড়

১৮ মে ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সাম্প্রতিক বদলির আদেশকে ঘিরে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন।সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ১৮ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা হয় প্রথম বদলির আদেশ (স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.১২৮)।এই আদেশে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক বিমলেন্দু রায়-কে বদলি করে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে পদায়ন করা হয়।

 

 

 

এর আগে ৪ মে ২০২৫ তারিখে দ্বিতীয় এক আদেশে (স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.৯৮) মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক তারেক আহমেদ চৌধুরীর দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় উঠে আশার পর তারেক আহমেদ চৌধুরী কে বদলি করা হয় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক হিসেবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ, সিলেট বিভাগ, সিলেট—এই আদেশে স্বাক্ষর করেন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তারেক আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।অর্থাৎ, উভয় কর্মচারী পরস্পর বদলি হয়েছেন—একজন সুনামগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারে, অন্যজন মৌলভীবাজার থেকে সুনামগঞ্জে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক বিমলেন্দু রায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।চাকরিতে বহাল থেকে তিনি ছুটির আবেদন করে বিদেশে গেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেও তার বেতন-ভাতা নিয়মিতভাবে চলতে থাকে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

এমন অবস্থায় বিদেশে অবস্থানরত ওই কর্মচারীর নামে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে বদলির আদেশ জারি হওয়ায় জনমনে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্কের ঝড়।প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি ও তথ্য যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ।

 

 

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ থেকে বদলি হওয়া হিসাব রক্ষক তারেক আহমেদ চৌধুরী এখনো পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী একটি মহল তার দায়িত্ব গ্রহণে চাপ ও প্রভাব বিস্তার করছে।আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে কোনো অফিসিয়াল হিসাব রক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন না।

সেখানে কপিল কিষন তালুকদার নামে একজন অফিস সহকারী কার্যত হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন,
প্রয়োজনে নতুন একজন নিয়মিত হিসাব রক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

অন্যদিকে, বিমলেন্দু রায়ের বিদেশে অবস্থান সত্ত্বেও তাকে অফিস আদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে, মৌলভীবাজারের কর্মচারী তারেক আহমেদ চৌধুরী পরিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না—ফলে দুই জেলার জেলা পরিষদেই হিসাব রক্ষক পদে কার্যত শূন্যতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

 

স্থানীয় প্রশাসনিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল বলছেন “যে কর্মচারী দেশে নেই, তার নামে বদলির আদেশ—এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ত্রুটির উদাহরণ। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও তদন্তের দাবি রাখে।”

তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়
প্রথম স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.১২৮
দ্বিতীয় স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.৯৮

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

দিনাজপুর বীরগঞ্জে তান্ত্রিক কবিরাজ কে মারপিট এবং প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা

বিদেশে থাকা কর্মচারীর নামে বদলি ও বেতন উত্তোলন : প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিয়ে সুনামগঞ্জে প্রশ্নের ঝড়

সময়: ০৮:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

১৮ মে ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সাম্প্রতিক বদলির আদেশকে ঘিরে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন।সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ১৮ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা হয় প্রথম বদলির আদেশ (স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.১২৮)।এই আদেশে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক বিমলেন্দু রায়-কে বদলি করে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে পদায়ন করা হয়।

 

 

 

এর আগে ৪ মে ২০২৫ তারিখে দ্বিতীয় এক আদেশে (স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.৯৮) মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক তারেক আহমেদ চৌধুরীর দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় উঠে আশার পর তারেক আহমেদ চৌধুরী কে বদলি করা হয় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক হিসেবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ, সিলেট বিভাগ, সিলেট—এই আদেশে স্বাক্ষর করেন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তারেক আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।অর্থাৎ, উভয় কর্মচারী পরস্পর বদলি হয়েছেন—একজন সুনামগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারে, অন্যজন মৌলভীবাজার থেকে সুনামগঞ্জে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক বিমলেন্দু রায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।চাকরিতে বহাল থেকে তিনি ছুটির আবেদন করে বিদেশে গেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেও তার বেতন-ভাতা নিয়মিতভাবে চলতে থাকে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

এমন অবস্থায় বিদেশে অবস্থানরত ওই কর্মচারীর নামে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে বদলির আদেশ জারি হওয়ায় জনমনে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্কের ঝড়।প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি ও তথ্য যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ।

 

 

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ থেকে বদলি হওয়া হিসাব রক্ষক তারেক আহমেদ চৌধুরী এখনো পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন রাজশাহীতে

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী একটি মহল তার দায়িত্ব গ্রহণে চাপ ও প্রভাব বিস্তার করছে।আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে কোনো অফিসিয়াল হিসাব রক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন না।

সেখানে কপিল কিষন তালুকদার নামে একজন অফিস সহকারী কার্যত হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন,
প্রয়োজনে নতুন একজন নিয়মিত হিসাব রক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

অন্যদিকে, বিমলেন্দু রায়ের বিদেশে অবস্থান সত্ত্বেও তাকে অফিস আদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে, মৌলভীবাজারের কর্মচারী তারেক আহমেদ চৌধুরী পরিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না—ফলে দুই জেলার জেলা পরিষদেই হিসাব রক্ষক পদে কার্যত শূন্যতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

 

স্থানীয় প্রশাসনিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল বলছেন “যে কর্মচারী দেশে নেই, তার নামে বদলির আদেশ—এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ত্রুটির উদাহরণ। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও তদন্তের দাবি রাখে।”

তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়
প্রথম স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.১২৮
দ্বিতীয় স্বারক নং: ০৫.৪৬.০০০০.০০০.০০৭.১৯.০০০২.২৫.৯৮