
লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট
মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল ও নির্ভেজাল সম্পর্কগুলোর মধ্যে স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব অন্যতম। এই বন্ধুত্বে থাকে না কোনো স্বার্থ, থাকে না কোনো হিসাব—থাকে শুধু আন্তরিকতা, হাসি আর স্মৃতির অমলিন রঙ। সময়ের স্রোতে আমরা যতই দূরে সরে যাই না কেন, সেই দিনগুলোর টান কখনোই শেষ হয় না। সেই চিরন্তন টানের ডাকে সাড়া দিয়েই আজ ২৭ রমজান, ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ক্লাব ’৯৪, মানিকগঞ্জ ব্যাচের রি-ইউনিয়ন ও ইফতার মাহফিল।
এই আয়োজন ছিল স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পর্কের নবায়ন। মানিকগঞ্জে অবস্থানরত বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তবে একটি বাস্তবতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে—আগের তুলনায় অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। এই প্রবণতা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ বন্ধুত্বের এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখতে হলে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কৃপণতা নয়, উদারতা ও আন্তরিকতাই হতে হবে আমাদের পথচলার মূল শক্তি।
নব্বইয়ের দশকের সেই শ্রেণিকক্ষ আজ স্মৃতির পাতায়, কিন্তু সেই বেঞ্চে বসে গড়ে ওঠা স্বপ্নগুলো আজ বাস্তবের রূপ নিয়েছে। এই ব্যাচের সদস্যরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত—কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউবা বিভিন্ন পেশায় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এই পুনর্মিলনী সেই সবার জীবনগল্পকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়, যেখানে অতীত আর বর্তমান একসাথে মিশে যায়।
রমজানের পবিত্র আবহে আয়োজিত ইফতার মাহফিল এই মিলনমেলাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। ইফতার কেবল খাদ্যগ্রহণ নয়, এটি ভাগাভাগির এক অনন্য সংস্কৃতি—যেখানে হৃদয়ের দূরত্ব কমে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। একসাথে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে বন্ধুরা আবারও উপলব্ধি করেছেন ঐক্য, সহমর্মিতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের গভীরতা।
এই ধরনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক সংযোগের প্রসার। দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে মানুষ শুধু স্মৃতিচারণই করে না, বরং জীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরকে সমৃদ্ধ করে। অনেক সময় এই মিলনমেলা থেকেই জন্ম নেয় নতুন উদ্যোগ, সমাজকল্যাণমূলক পরিকল্পনা এবং মানবিক সহায়তার পথ। একটি সংগঠিত ব্যাচ সহজেই একটি শক্তিশালী সামাজিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
এসএসসি ক্লাব ’৯৪ মানিকগঞ্জ সেই সম্ভাবনারই এক উজ্জ্বল প্রতীক। এর মূলমন্ত্র—“Unity • Friend • Brotherhood”—শুধু একটি বাক্য নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত দর্শন, যা বন্ধুত্বকে কেবল স্মৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং একে বাস্তব জীবনের সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় রূপান্তরিত করে।
আজকের এই মিলনমেলা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই বাড়ুক, সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলে গেলে চলবে না। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ তার অর্জনের হিসাব নয়, তার সম্পর্কের উষ্ণতাকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয়।
আশা করা যায়, এই পুনর্মিলনী ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—যেখানে অংশগ্রহণ হবে আরও ব্যাপক, উদ্যোগ হবে আরও সংগঠিত, আর বন্ধুত্বের বন্ধন হবে আরও দৃঢ়।
বন্ধুত্বের এই আলোকিত যাত্রা অব্যাহত থাকুক, সময়ের সব বাধা অতিক্রম করে—এই প্রত্যাশাই রইল।
অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, গবেষক ও
Reporter Name 
























