
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে বহুল আলোচিত সরকারি খাস পুকুর দখল ও অবৈধ মাটি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মী স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানার বদলির পরপরই নতুন করে মাটি খনন শুরু করেছে।
গত শনিবার গভীর রাতে সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পেছনে এবং শাহী মসজিদের সংলগ্ন ওই খাস পুকুরে অবাধে মাটি উত্তোলন করা হয়। রাতের আঁধারে ফিটনেসবিহীন ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এলাকার সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সান্তাহার শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ। তার প্রভাব এবং রাজনৈতিক মদদেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে।
জানা যায়, বশিপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৩২ শতক জমির ওপর অবস্থিত এই পুকুরটি সরকারি সম্পত্তি। এর মধ্যে পুকুর, মসজিদ, অজুখানা, মার্কেট এবং কিছু পতিত জমি রয়েছে, যার কোনো বৈধ লিজ নেই। তবুও পুকুরটিকে মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তোলিত মাটি ব্যক্তিগত ইটভাটায় সরবরাহ এবং বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পুকুরটির গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পাশের কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সংলগ্ন সড়কও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এর আগে এ ঘটনায় স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ মার্চ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলি হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সান্তাহার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ জানান, খাস পুকুর খননের জন্য কোনো বৈধ আবেদন নেই এবং এর আগে জরিমানাও করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের উদ্যোগ রাজনৈতিক প্রভাবে ভেস্তে যাওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।##
Reporter Name 



























