
আজিজুল রহমান , বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত গরু না পেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন এক দরিদ্র জেলে। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষ না দেওয়ায় তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে পরে বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে সেই গরুটি একই ইউনিয়নের অন্য এক ব্যক্তির গোয়ালে পাওয়া গেছে।
উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস পেশায় একজন জেলে। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তিনি তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা মোহিত বালা গরু বিতরণের প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড সংগ্রহ করেন। পরে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি তাকে না জানিয়ে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তারাপদ বিশ্বাস জানান, তালিকার ৩৯ নম্বরে থাকা তার বরাদ্দকৃত প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বখনা বাছুর অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। তার অভিযোগ, একই দিনে বিতরণ হওয়া ৬০টি গরুর মধ্যে আরও কয়েকজন তালিকাভুক্ত জেলেও গরু পাননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গরুটি বর্তমানে একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের কাছে রয়েছে। শ্রীনাথের ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী বলেন, “গরু পাওয়ার জন্য আমাদের কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমরা গরুটি পাই। পরে জানতে পারি এটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল।”
তিনি আরও জানান, গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা প্রকৃত নয়। গরু নেওয়ার সময় তার কোনো পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি।ভুক্তভোগীর ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলেও উল্টো তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার দাবি, একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি না। কে গরু পেয়েছে বা পায়নি, তা মৎস্য অফিসের বিষয়।”
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, তারাপদ বিশ্বাস তালিকাভুক্ত জেলে। তিনি উপস্থিত না থাকায় তার পরিচয়দানকারী একজনের কাছে গরুটি দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে গরু হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাঠ সহায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেও ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় তথ্য পাননি। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Reporter Name 


























