Dhaka ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত না করায় বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, আইনগত তদন্ত শুরু সারাদিনের প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন বিপর্যস্ত, পথচলতি মানুষ বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা আলহামদুলিল্লাহ,  ​মানবতার সেবায় আরেকটি ছোট্ট উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হলো ভারী বর্ষণে খুলশীর লালখান বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য: সাঈদ আল নোমান নেত্রকোনা পূর্বধলায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত ১০, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা; গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কালিয়াকৈরে এক ড্রাম কালো পানিতে সারাদিন মুরগি ড্রেসিং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ৮৬ Time View

 

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :


গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন মুরগি পট্টিতে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই ড্রামের কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করা হচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শনিবার (২ মে ২০২৬) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চালার নিচে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মুরগি ড্রেসিং চলছে। এক শ্রমিক নীল রঙের ড্রামের পাশে দাঁড়িয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে গরম পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা ও পানিতে ভেজা, সেখানেই বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে। খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা জীবন্ত মুরগির পাশেই একই পানিতে ধোয়া হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত মুরগি। পুরো পরিবেশ ছিল নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে।

সরেজমিনে সদর বাজারসহ আশপাশের মুরগি পট্টিতে গিয়ে ১৫ থেকে ২০টি দোকানে একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হয়, যা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০টি মুরগি ড্রেসিংয়ে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে পানি কালো হয়ে যায় এবং তাতে ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, “ঘন ঘন পানি বদলাতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকে। তাই সকালের পানিই সারাদিন ব্যবহার করি। সবাই এমনটাই করে।”

বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, “চোখের সামনে দেখি কালো পানিতে মুরগি চুবানো হচ্ছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়ে আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়ে ধুই। তবুও ভয় লাগে—বাচ্চারা খায়।”

গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, “বাজারের প্রায় সব দোকানেই একই অবস্থা। উপায় না থাকায় কিনতে হয়। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলে তারা এমনটা করতে পারত না।”

আরও পড়ুনঃ  দেশকে বাঁচাতে প্রগতিশীল সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে-মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। এতে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং এমনকি কিডনি বিকলের মতো জটিল রোগ হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। একই পানি সারাদিন ব্যবহার করলে দোকান সিলগালা ও জরিমানা করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রয়োজন হলে দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থান : কালিয়াকৈর, গাজীপুর
তারিখ : ০২-০৫-২০২৬ ইং

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

কালিয়াকৈরে এক ড্রাম কালো পানিতে সারাদিন মুরগি ড্রেসিং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

সময়: ১০:২২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :


গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন মুরগি পট্টিতে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই ড্রামের কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করা হচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শনিবার (২ মে ২০২৬) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চালার নিচে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মুরগি ড্রেসিং চলছে। এক শ্রমিক নীল রঙের ড্রামের পাশে দাঁড়িয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে গরম পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা ও পানিতে ভেজা, সেখানেই বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে। খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা জীবন্ত মুরগির পাশেই একই পানিতে ধোয়া হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত মুরগি। পুরো পরিবেশ ছিল নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে।

সরেজমিনে সদর বাজারসহ আশপাশের মুরগি পট্টিতে গিয়ে ১৫ থেকে ২০টি দোকানে একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হয়, যা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০টি মুরগি ড্রেসিংয়ে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে পানি কালো হয়ে যায় এবং তাতে ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, “ঘন ঘন পানি বদলাতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকে। তাই সকালের পানিই সারাদিন ব্যবহার করি। সবাই এমনটাই করে।”

বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, “চোখের সামনে দেখি কালো পানিতে মুরগি চুবানো হচ্ছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়ে আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়ে ধুই। তবুও ভয় লাগে—বাচ্চারা খায়।”

গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, “বাজারের প্রায় সব দোকানেই একই অবস্থা। উপায় না থাকায় কিনতে হয়। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলে তারা এমনটা করতে পারত না।”

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে নিহত তিন পরিবার ও আহতকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। এতে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং এমনকি কিডনি বিকলের মতো জটিল রোগ হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। একই পানি সারাদিন ব্যবহার করলে দোকান সিলগালা ও জরিমানা করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রয়োজন হলে দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থান : কালিয়াকৈর, গাজীপুর
তারিখ : ০২-০৫-২০২৬ ইং