
ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলার পর শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাঘাটা থানা পুলিশ। পরে রোববার ( ১২ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা দায়রা জজ আদালতে বাদীর পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী সাহাদুল আলম ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের দায়ের করা একটি মামলায় (মামলা নম্বর: ১১৮/২৫) জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শনিবার রাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
রোববার ( ১২ এপ্রিল) গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ তার জামিন আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীর ছেলে রবিউল ইসলামকে মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘ল্যাব সহকারি’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তিনি আফজাল হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘুষ নিয়েও তিনি রবিউল ইসলামকে নিয়োগ না দিয়ে কৌশলে নিজের ছেলেকে ওই পদে চাকরি দেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জাহিদুল ইসলাম নানা টালবাহানা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ২০২৫ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন আফজাল হোসেন। তার দায়ের করা সেই মামলাতেই অবশেষে আইনের আওতায় এলেন এই প্রধান শিক্ষক।
আদালতে বাদীর পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী সাহাদুল আলম জানান, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এই একটি মামলাই নয়, বরং আরও অনেক মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন থেকে চারজন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। বাকি যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারাও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জাহিদুল ইসলামের এই কর্মকা-ে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহাবুর আলম জাহিদুল ইসলাম
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷
Reporter Name 






















