
বিশেষ প্রতিনিধি : বাবলু বড়ুয়া চট্টগ্রাম
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু করে তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত পালনের। দিনটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জীবনে আত্মশুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও মৈত্রীর এক অনন্য বার্তা নিয়ে আসে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘকে দান এবং বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। বিহারগুলোতে প্রজ্জ্বলিত করা হয় শত শত প্রদীপ, যা জ্ঞানের আলোয় অন্ধকার দূর করার প্রতীক।
প্রবারণার তাৎপর্য:
ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রবারণা শব্দের অর্থ ‘বরণ করা’, ‘নিবৃত্ত হওয়া’ বা ‘আত্মসমর্পণ করা’। দীর্ঘ তিন মাস বর্ষাব্রত পালনের সময় ভিক্ষু সংঘের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা একে অপরের কাছে সচ্ছন্দে স্বীকার ও ক্ষমার মাধ্যমে প্রবারণা বা আত্মশুদ্ধি লাভ করেন। এছাড়া, এই দিনেই মহামানব গৌতম বুদ্ধ তার মা মায়ার উদ্দেশ্যে স্বর্গরাজ্যে অভিধর্ম প্রচার শেষে মর্ত্যধামে নেমে আসেন। বুদ্ধের এই মর্ত্যে আগমনকে স্মরণ করে বৌদ্ধরা আকাশে ওড়ান বর্ণিল ফানুস।
সন্ধ্যা নামলেই ফানুসের আলোয় আলোকিত আকাশ:
প্রবারণা পূর্ণিমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফানুস ওড়ানো। সন্ধ্যার পর থেকে দেশের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার ও বসতবাড়ির আঙিনায় ফানুস ও প্রদীপের আলোয় এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয়। শত শত ফানুস রাতের আকাশকে রঙিন আলোয় রাঙিয়ে তোলে, যা শান্তি ও মৈত্রীর প্রতীক হিসেবে আকাশে ডানা মেলে।
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা:
উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতারা দেশবাসীকে প্রবারণা পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা বলেন, “প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের আত্মশুদ্ধি এবং পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। হিংসা-দ্বেষ ভুলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় এই উৎসবের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শান্তি, প্রীতি ও মৈত্রীর এই পবিত্র দিনে দেশের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা হয়েছে।
Reporter Name 





















