
সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী–৫ (দুর্গাপুর–পুঠিয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, সব ধর্মাবলম্বী মানুষকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ এ দেশে নিরাপদে বসবাস করবে—এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুর্গাপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে দুপুর ৩টায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করব। এ দেশে আর কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়ন থাকবে না। মেহনতি মানুষের ওপর জুলুম চলবে না। ব্যবসা বা ঘর নির্মাণের জন্য কাউকে চাঁদা দিতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের জান-মাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সমাবেশে রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুব রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শ্রী সুনীল সরকার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন, জেলা বিএনপির সদস্য মো. সাইদুর রহমান মুন্টু এবং বিভাগীয় কৃষক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন সরকার টিটু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, এই বাংলাদেশ ধ্বংস করার অধিকার কারোর নেই। তবে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার অধিকার দেশের প্রতিটি মানুষের রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—একটি গোষ্ঠী ও একটি চক্র বারবার বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা আজও বাংলাদেশকে পরাশক্তির হাতে তুলে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় এই অপশক্তিরাই রাজাকার গোলাম আযমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে এ দেশের নিরীহ হিন্দু ও মুসলমান মা–বোনদের তুলে দিয়েছিল। তারা কখনোই বাংলাদেশকে হৃদয় থেকে স্বীকার করেনি। আজও সেই সময়ের নির্যাতিত হিন্দু মা–বোনদের আর্তচিৎকার আমাদের কানে বাজে।
গোলাম মোস্তফা মামুন আরও বলেন, আজ সেই একই গোষ্ঠী নতুন রূপে আবারও ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা দেশকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা সব সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে, তারাই আবার বাংলার ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত নয়—দেশের মানুষ সব বুঝে গেছে।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার একমাত্র পথ হলো বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনা।
তাই তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল কবির বুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম আকবর আলী বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রেজাউল করিম স্বপন, পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জার্জিস হোসেন সোহেল, বিএনপি নেতা গোলাম মর্তুজা সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে ধানের শীষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ চালান।
Reporter Name 




















