Dhaka ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন রামপালে স্বস্তির বৃষ্টি, থেকে থেকে অব্যাহত থাকতে পারে কয়েকদিন নবীগঞ্জের ৩টি ক্ষুদ্র দৃ:গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ- শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন বগুড়ায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার-মোটরসাইকেল পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!! নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়: খুলছে সংস্কারের পথ, কমবে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৯ Time View

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়: খুলছে সংস্কারের পথ, কমবে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক  || 14 ফেব্রুয়ারি 2026


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। গণভোটের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমবে, বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। পাশাপাশি সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি খাতে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে তৈরি করা হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।

সংবিধান–সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় গণভোটের আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করে প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে এ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচক বিশ্লেষক মুনীরা খান বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট নিয়ে অনেকের মধ্যে ধোঁয়াশা ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় এসেছে, যা ইতিবাচক।’

সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনগুলো

  • প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস

  • রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি

  • সাংবিধানিক পদে নিয়োগে বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন

  • সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানে স্বাধীনতা বৃদ্ধি

  • ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় ফল কাঁঠালের সমারোহে মুখর উঠোন, শিশুদের উচ্ছ্বাস

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান—দুই পদে একসঙ্গে থাকতে পারবেন না—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে (যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে কিছু রাজনৈতিক দলের)।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন।

আগামী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন কাঠামো যুক্ত হবে। এতে এককভাবে কোনো একটি দলের পক্ষে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় এ গণভোটকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়: খুলছে সংস্কারের পথ, কমবে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা

সময়: ০২:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক  || 14 ফেব্রুয়ারি 2026


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। গণভোটের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমবে, বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। পাশাপাশি সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি খাতে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে তৈরি করা হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।

সংবিধান–সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় গণভোটের আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করে প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে এ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচক বিশ্লেষক মুনীরা খান বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট নিয়ে অনেকের মধ্যে ধোঁয়াশা ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় এসেছে, যা ইতিবাচক।’

সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনগুলো

  • প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস

  • রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি

  • সাংবিধানিক পদে নিয়োগে বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন

  • সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানে স্বাধীনতা বৃদ্ধি

  • ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি

আরও পড়ুনঃ  ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান—দুই পদে একসঙ্গে থাকতে পারবেন না—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে (যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে কিছু রাজনৈতিক দলের)।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন।

আগামী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন কাঠামো যুক্ত হবে। এতে এককভাবে কোনো একটি দলের পক্ষে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় এ গণভোটকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।