Dhaka ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
মন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুলের তোড়া নিলেন ইউএনও ডুমুরিয়ায় এসিআই বীজ কোম্পানির বন্ধু ধানের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে আদমদীঘিতে আবেগঘন বিদায়: পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা: ব্যক্তিজীবন, ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তার আলোকে কালিয়াকৈরে ৭০ কেজি গাজা সহ আটক ২ নগদ তিনলক্ষ সত্তর হাজার টাকা মণিরামপুরে পরিত্যক্ত স্কুল ভবন এখন মাদকের নিরাপদ আস্তানা: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ডুমুরিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সোনারগাঁ থানার ওসির দিকনির্দেশনায় এসআই আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সফল অভিযান রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মাষ্টারের দাফন সম্পন্ন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সমিটার চুরি, ঝুঁকিতে ১৫০ বিঘা ধান

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ Time View

 

মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পয়াত মাঠে সেচ পাম্পের তিনটি ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গত তিন মাসে একই স্থানে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সময়মতো সেচ না পেলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার পয়াত মাঠে পরিচালিত একটি সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ থেকে তিনটি ট্রান্সমিটার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে ট্রান্সমিটার না দেখে নলকূপ মালিককে বিষয়টি জানান। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ট্রান্সমিটার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গাজীপুর সেচ পাম্পের আওতায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল শতাধিক কৃষক। কিন্তু বারবার ট্রান্সমিটার চুরির কারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে মাঠজুড়ে ধানক্ষেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের আবাদ থাকলেও অনেক জমিতে পানি নেই। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত সেচ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দফায় পানি দিয়েছি। কিন্তু ৭ দিন ধরে পানি দিতে পারছি না। দু-এক দিনের মধ্যে পানি না পেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”

সেচ পাম্পের পরিচালক সাত্তার মেম্বার বলেন, “গত তিন মাসে এই নিয়ে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। আগেরবার কষ্ট করে টাকা তুলে নতুন ট্রান্সমিটার লাগিয়েছিলেন। এবার আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফসলহানি অনিবার্য।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হয়েছে, তবে তারা কৃষকদের নিজস্ব অর্থে ট্রান্সমিটার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

এ বিষয়ে বুড়িচং বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইসহাক মিয়াজি বলেন, প্রকল্পটি বিএডিসির আওতাভুক্ত না, তাই আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বুড়িচং অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আগেও একই প্রকল্পের ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছিল। তখন মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পুরোনো কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই আবার চুরি হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অবস্থানের কারণে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

মন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুলের তোড়া নিলেন ইউএনও

বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সমিটার চুরি, ঝুঁকিতে ১৫০ বিঘা ধান

সময়: ০৫:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

 

মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পয়াত মাঠে সেচ পাম্পের তিনটি ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গত তিন মাসে একই স্থানে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সময়মতো সেচ না পেলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার পয়াত মাঠে পরিচালিত একটি সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ থেকে তিনটি ট্রান্সমিটার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে ট্রান্সমিটার না দেখে নলকূপ মালিককে বিষয়টি জানান। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ট্রান্সমিটার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গাজীপুর সেচ পাম্পের আওতায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল শতাধিক কৃষক। কিন্তু বারবার ট্রান্সমিটার চুরির কারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে মাঠজুড়ে ধানক্ষেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের আবাদ থাকলেও অনেক জমিতে পানি নেই। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত সেচ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দফায় পানি দিয়েছি। কিন্তু ৭ দিন ধরে পানি দিতে পারছি না। দু-এক দিনের মধ্যে পানি না পেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”

সেচ পাম্পের পরিচালক সাত্তার মেম্বার বলেন, “গত তিন মাসে এই নিয়ে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। আগেরবার কষ্ট করে টাকা তুলে নতুন ট্রান্সমিটার লাগিয়েছিলেন। এবার আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফসলহানি অনিবার্য।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হয়েছে, তবে তারা কৃষকদের নিজস্ব অর্থে ট্রান্সমিটার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  নবীনগরে নির্মানাধীন ভবনের কাজে পুলিশের বাঁধা দেয়ার অভিযোগ, উদিগ্ন ভুক্তভোগী

এ বিষয়ে বুড়িচং বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইসহাক মিয়াজি বলেন, প্রকল্পটি বিএডিসির আওতাভুক্ত না, তাই আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বুড়িচং অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আগেও একই প্রকল্পের ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছিল। তখন মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পুরোনো কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই আবার চুরি হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অবস্থানের কারণে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।”