Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা “ডুমুরিয়ায় ‘রাজা মানিক’ গরু পালন করে স্বাবলম্বী মিনু সাহা” নড়াইলে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শনে আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু _এমপি চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নয়, পাওয়া গেল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা অস্থায়ীভাবে নতুন ঠিকানায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস জাতীয় সংসদকে বিএনপির পরিবারতন্ত্র সংসদ বানিয়েছে জেএসএফ বাংলাদেশ ডুমুরিয়ায় উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতারিত ও নির্যাতিতদের সহায়তার উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গে ” জয় শ্রীরাম ” কৌশলে জিতে গেল বিজেপি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মাঠে না এসেই স্বর্ণ জয়ের অভিযোগ: ইবি শিক্ষার্থী মাশরুরকে ঘিরে বিতর্ক

 


 

মানিক হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিনিধি:


আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার ৮০০ মিটার দৌড়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মাশরুর রহমানকে প্রথম স্থান অধিকারী ঘোষণা করা হলেও, তাকে মাঠে অংশ নিতে দেখা যায়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রতিযোগীদের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মাশরুর রহমানের পরিবর্তে অন্য একজন প্রতিযোগী দৌড়ে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

জানা যায়, মাশরুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তবে যে ব্যক্তি তার হয়ে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ, তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ আছে, তিনি ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলীর ছাত্র।

প্রতিযোগীদের দাবি, ঘোষিত বিজয়ীকে তারা মাঠে অংশ নিতে দেখেননি। এ ঘটনায় শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান, প্রশিক্ষক সাহেব আলীসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ মহিবুল্লাহ বলেন, “ছবির ব্যক্তি আর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এক নন। আমি তাকে মাঠে দেখিনি। প্রকৃত বিজয়ীকে দেখলে চিনতে পারতাম।”

চতুর্থ স্থান অধিকারী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, “যিনি প্রথম হয়েছেন, তার শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ভিন্ন ছিল। ছবির ব্যক্তির সঙ্গে কোনো মিল নেই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মাশরুর রহমান বলেন, “আমি ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিইনি। আমার বিভাগের অন্য একজন মাশরুর অংশ নিয়েছিল।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি পরে ফোন বন্ধ করে দেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে একই নামে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি একজন বাইরের প্রশিক্ষক। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা আমি জানি না।”

আরও পড়ুনঃ  মাদক সেবনে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড, ভাঙ্গুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের অজান্তে ঘটেছে। আমরা তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনে ফলাফল সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।”

বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা

মাঠে না এসেই স্বর্ণ জয়ের অভিযোগ: ইবি শিক্ষার্থী মাশরুরকে ঘিরে বিতর্ক

সময়: ০২:১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

 


 

মানিক হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিনিধি:


আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার ৮০০ মিটার দৌড়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মাশরুর রহমানকে প্রথম স্থান অধিকারী ঘোষণা করা হলেও, তাকে মাঠে অংশ নিতে দেখা যায়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রতিযোগীদের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মাশরুর রহমানের পরিবর্তে অন্য একজন প্রতিযোগী দৌড়ে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

জানা যায়, মাশরুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তবে যে ব্যক্তি তার হয়ে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ, তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ আছে, তিনি ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলীর ছাত্র।

প্রতিযোগীদের দাবি, ঘোষিত বিজয়ীকে তারা মাঠে অংশ নিতে দেখেননি। এ ঘটনায় শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান, প্রশিক্ষক সাহেব আলীসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ মহিবুল্লাহ বলেন, “ছবির ব্যক্তি আর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এক নন। আমি তাকে মাঠে দেখিনি। প্রকৃত বিজয়ীকে দেখলে চিনতে পারতাম।”

চতুর্থ স্থান অধিকারী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, “যিনি প্রথম হয়েছেন, তার শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ভিন্ন ছিল। ছবির ব্যক্তির সঙ্গে কোনো মিল নেই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মাশরুর রহমান বলেন, “আমি ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিইনি। আমার বিভাগের অন্য একজন মাশরুর অংশ নিয়েছিল।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি পরে ফোন বন্ধ করে দেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে একই নামে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি একজন বাইরের প্রশিক্ষক। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা আমি জানি না।”

আরও পড়ুনঃ  বারিধারা ডি মার্জেন্ট গির্জায় দস্যুতার ঘটনায় লুষ্ঠিত মালামাল উদ্ধার সহ ০৩ জন গ্রেফতার

শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের অজান্তে ঘটেছে। আমরা তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনে ফলাফল সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।”

বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”