Dhaka ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালিগঞ্জে কৃষাণীদের মাঝে ক্ষুদ্র বীজ উদ্যোগের প্রারম্ভিক অনুদানের খরচের চেক বিতরণ সাংবাদিক আবেদ আমেরীর ওপর হামলার ঘটনায় রাউজান প্রেস ক্লাবের উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা নবীনগরে মহেশখাল দখল করে দোকানঘর নির্মান, নিরব প্রশাসন সরকারি চাল না পেয়ে গলাচিপায় জেলেদের মানববন্ধন প্রশাসনের দুর্বল উদ্যোগে চরম ভোগান্তিতে মণিরামপুর, যানজটে অতিষ্ঠ উপজেলা সদর ঝিকরগাছায় মা-ছেলের মৃত্যু : অভিমানে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ডুমুরিয়া মৎস্য বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে আদায় হচ্ছে বহু বছরের বকেয়া সরকারি ঋণ; সচেতন মহলের সাধুবাদ জ্ঞাপন কালীগঞ্জে বসত বাড়ীতে হামলা করে স্বর্ণালংকারসহ ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন জকিগঞ্জে তালামীযের সম্মেলনে যেতে আল্লামা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীকে বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  রাঙ্গাবালীতে সাগরে নিষিদ্ধ অমান্য করে পাঁচ ট্রলার মালিক কে জরিমান

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালিগঞ্জে কৃষাণীদের মাঝে ক্ষুদ্র বীজ উদ্যোগের প্রারম্ভিক অনুদানের খরচের চেক বিতরণ

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

সময়: ১০:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  আধুনিক কৃষি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে গলাচিপায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।