Dhaka ১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন রামপালে স্বস্তির বৃষ্টি, থেকে থেকে অব্যাহত থাকতে পারে কয়েকদিন নবীগঞ্জের ৩টি ক্ষুদ্র দৃ:গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ- শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন বগুড়ায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার-মোটরসাইকেল পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!! নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নরসুন্দা নদীতে সেতুর আড়ালে স্থায়ী বাঁধ: এলজিইডির প্রকল্পে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের নামে স্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। তাদের দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তি (এলজিইডি) এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ বন্যা ও পরিবেশগত সংকট তৈরি করতে পারে।

সদর উপজেলার রঘুখালী এলাকায় শহর বাইপাস সড়কের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয় একটি ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ। প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এ প্রকল্প ১১ মাসেও অগ্রসর হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

নদীর মাঝখানে সেতু নাকি বাঁধ?
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেতু নির্মাণের জন্য নদীর মাঝখানে বিপুল পরিমাণ বালু, পাথর ও মাটি ফেলে পানির প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে আটকে রাখা হয়েছে। এর ফলে নদীর দুই পাড়ে জমে উঠেছে স্থির ও পচা পানি। স্থানীয় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আশপাশের গ্রামাঞ্চল জলাবদ্ধতায় পড়বে এবং কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে পুরো অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘রিভার বাংলা’-এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন:

“এটা আদৌ সেতু কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এমন নিচু এবং নদী অবরুদ্ধকারী কাঠামো ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণ হবে। আমরা চাই পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও নৌচলাচল উপযোগী সেতু নির্মাণ হোক।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কিশোরগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন:

“নরসুন্দা নদী খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেখানে সরকার ১৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে এলজিইডি উল্টো নদী হত্যা করছে। এ ধরণের আত্মঘাতী প্রকল্পের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীর বলেন:

“প্রকল্পটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে নকশা নদীর স্বাভাবিক গতিপথকেই অস্বীকার করে, তা অনুমোদন দিল কে? আর সেই ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায় কে নেবে?

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত

উন্নয়ন নাকি পরিবেশ ধ্বংস?
পরিবেশবিদরা বলছেন, উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জনজীবনের ক্ষতি করে নয়। তারা দাবি জানিয়েছেন, প্রকল্পটি অবিলম্বে পুনর্মূল্যায়ন করে সেতুর নকশা পরিবর্তন করতে হবে, যাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং নৌযান চলাচল বজায় থাকে।

স্থানীয় জনগণও চাচ্ছেন, উন্নয়নের নামে নদী হত্যা নয়—নতুনভাবে, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব সেতু নির্মাণ হোক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন

নরসুন্দা নদীতে সেতুর আড়ালে স্থায়ী বাঁধ: এলজিইডির প্রকল্পে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

সময়: ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের নামে স্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। তাদের দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তি (এলজিইডি) এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ বন্যা ও পরিবেশগত সংকট তৈরি করতে পারে।

সদর উপজেলার রঘুখালী এলাকায় শহর বাইপাস সড়কের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয় একটি ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ। প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এ প্রকল্প ১১ মাসেও অগ্রসর হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

নদীর মাঝখানে সেতু নাকি বাঁধ?
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেতু নির্মাণের জন্য নদীর মাঝখানে বিপুল পরিমাণ বালু, পাথর ও মাটি ফেলে পানির প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে আটকে রাখা হয়েছে। এর ফলে নদীর দুই পাড়ে জমে উঠেছে স্থির ও পচা পানি। স্থানীয় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আশপাশের গ্রামাঞ্চল জলাবদ্ধতায় পড়বে এবং কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে পুরো অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘রিভার বাংলা’-এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন:

“এটা আদৌ সেতু কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এমন নিচু এবং নদী অবরুদ্ধকারী কাঠামো ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণ হবে। আমরা চাই পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও নৌচলাচল উপযোগী সেতু নির্মাণ হোক।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কিশোরগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন:

“নরসুন্দা নদী খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেখানে সরকার ১৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে এলজিইডি উল্টো নদী হত্যা করছে। এ ধরণের আত্মঘাতী প্রকল্পের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীর বলেন:

“প্রকল্পটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে নকশা নদীর স্বাভাবিক গতিপথকেই অস্বীকার করে, তা অনুমোদন দিল কে? আর সেই ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায় কে নেবে?

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন

উন্নয়ন নাকি পরিবেশ ধ্বংস?
পরিবেশবিদরা বলছেন, উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জনজীবনের ক্ষতি করে নয়। তারা দাবি জানিয়েছেন, প্রকল্পটি অবিলম্বে পুনর্মূল্যায়ন করে সেতুর নকশা পরিবর্তন করতে হবে, যাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং নৌযান চলাচল বজায় থাকে।

স্থানীয় জনগণও চাচ্ছেন, উন্নয়নের নামে নদী হত্যা নয়—নতুনভাবে, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব সেতু নির্মাণ হোক।