Dhaka ০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাষ্ট্রপতি দেখতে গেলেন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীকে বগুড়ায় ৪৫ দিনের নবজাতককে কোলে নিয়ে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার!! চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত: আত্মশুদ্ধি ও মৈত্রীর বাণীতে আলোকিত বৌদ্ধ বিহারসমূহ অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে রেমিট্যান্স ২৬ হাজার ৪১১ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কালীগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কাটা ও মারধরের অভিযোগ বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ  ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার “পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ” গল্প গ্রন্থের জন্য তুলতুল পেলেন “বাবুই” বেস্ট সেলার অ্যাওয়ার্ড ভোলাহাটে আমের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু ‘ম্যাংগো পিল টি’, তিন বন্ধুর তাক লাগানো উদ্ভাবন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“শ্রীপুরে একই বেইলি ব্রিজ ভেঙেছে ২৮ বার “

 

মোঃসুলতান মাহমুদ ,গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরের মাটিকাটা নদীর উপর নির্মিত চৌধুরী ঘাট বেইলি ব্রিজটি ২৮ বারের মতো ভেঙেছে। এবার ব্রিজটির স্লিপার ভেঙে পড়ে যায় নদীতে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ।

আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামের চৌধুরীঘাট এলাকায় অবস্থিত বেইলি ব্রিজটির উত্তর পাশের প্রবেশ পথে স্ট্রিলের স্লিপার খুলে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। এদিন সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার কারখানার শ্রমিক সহ সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় লোকজন ও সড়কের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালের যেকোনো সময় ব্রিজের স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। একই সাথে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। তাতে করে সড়কে চলাচলকারী অনেক পরিবহন আটকা পড়েছে। এতে জৈনা বাজার টু কাওরাইদ সংযোগ সড়কের সকল ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান বা নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চলেছে সব সময়। এতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে পারাপার হতে দেখা যায়। ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে ছোটছোট পরিবহনগুলো। আটকা পড়েছে শত-শত শ্রমিক পরিবহন বাস। এই সড়কে চলাচল করে পার্শ্ববর্তী গফরগাঁও ভালুকা উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক।

আমির হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, গতকাল রাতে চৌধুরী ঘাটের মাটিকাটা নদীর ওই ব্রিজের দুটি স্লিপার ভেঙে যায়। একটি স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। সকাল থেকেই শত-শত গাড়ি আটকা পড়েছে। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে।

ওই রাস্তায় নিয়মিত যাত্রী আবুল হাশেম নামের একজন বলেন, কিছুদিন পরপর এই ব্রিজ ভাঙে। আগেও স্লিপার খুলে নদীতে পড়েছে বহুবার। দুবার গাড়ি নদীতে পড়ছে তবুও ব্রিজের কাজ হচ্ছে না। নড়বড়ে ব্রিজ প্রায় সময় ভেঙে পড়ে। এ দুর্ভোগের শেষ কবে।

আরও পড়ুনঃ  ময়নামতীতে বাড়ছে অপরাধের উদ্বেগ, এবার ডাকাতের কবলে প্রবাসফেরত যুবক

আমান মিয়া নামের একজন সিএনজি চালক বলেন, সকালে কাওরাইদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে এসে দেখি ব্রিজ ভাঙা। পেছনে বহু গাড়ি তাই পেছনে যেতেও পরছি না। আটকা পড়ে আছি ব্রিজে। এই ব্রিজটি অচল হয়ে যাওয়াতে ১৫ কিলোমিটা ঘুরে আমাদের চলাচল করতে হবে। কিন্তু ওই সড়কটির অবস্থাও বেশি ভালো না। আমরা এখন কী করব.?

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তাওহীদ আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেইলি ব্রিজটি মেরামত করে স্বাভাবিক যানচলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককেও নিরাপত্তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নদীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় নির্মাণ কাজ আটকে আছে। আশা করছি সকল জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ সম্ভব হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাষ্ট্রপতি দেখতে গেলেন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীকে

“শ্রীপুরে একই বেইলি ব্রিজ ভেঙেছে ২৮ বার “

সময়: ০৯:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

মোঃসুলতান মাহমুদ ,গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরের মাটিকাটা নদীর উপর নির্মিত চৌধুরী ঘাট বেইলি ব্রিজটি ২৮ বারের মতো ভেঙেছে। এবার ব্রিজটির স্লিপার ভেঙে পড়ে যায় নদীতে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ।

আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামের চৌধুরীঘাট এলাকায় অবস্থিত বেইলি ব্রিজটির উত্তর পাশের প্রবেশ পথে স্ট্রিলের স্লিপার খুলে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। এদিন সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার কারখানার শ্রমিক সহ সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় লোকজন ও সড়কের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালের যেকোনো সময় ব্রিজের স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। একই সাথে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। তাতে করে সড়কে চলাচলকারী অনেক পরিবহন আটকা পড়েছে। এতে জৈনা বাজার টু কাওরাইদ সংযোগ সড়কের সকল ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান বা নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চলেছে সব সময়। এতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে পারাপার হতে দেখা যায়। ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে ছোটছোট পরিবহনগুলো। আটকা পড়েছে শত-শত শ্রমিক পরিবহন বাস। এই সড়কে চলাচল করে পার্শ্ববর্তী গফরগাঁও ভালুকা উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক।

আমির হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, গতকাল রাতে চৌধুরী ঘাটের মাটিকাটা নদীর ওই ব্রিজের দুটি স্লিপার ভেঙে যায়। একটি স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। সকাল থেকেই শত-শত গাড়ি আটকা পড়েছে। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে।

ওই রাস্তায় নিয়মিত যাত্রী আবুল হাশেম নামের একজন বলেন, কিছুদিন পরপর এই ব্রিজ ভাঙে। আগেও স্লিপার খুলে নদীতে পড়েছে বহুবার। দুবার গাড়ি নদীতে পড়ছে তবুও ব্রিজের কাজ হচ্ছে না। নড়বড়ে ব্রিজ প্রায় সময় ভেঙে পড়ে। এ দুর্ভোগের শেষ কবে।

আরও পড়ুনঃ  ময়নামতীতে বাড়ছে অপরাধের উদ্বেগ, এবার ডাকাতের কবলে প্রবাসফেরত যুবক

আমান মিয়া নামের একজন সিএনজি চালক বলেন, সকালে কাওরাইদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে এসে দেখি ব্রিজ ভাঙা। পেছনে বহু গাড়ি তাই পেছনে যেতেও পরছি না। আটকা পড়ে আছি ব্রিজে। এই ব্রিজটি অচল হয়ে যাওয়াতে ১৫ কিলোমিটা ঘুরে আমাদের চলাচল করতে হবে। কিন্তু ওই সড়কটির অবস্থাও বেশি ভালো না। আমরা এখন কী করব.?

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তাওহীদ আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেইলি ব্রিজটি মেরামত করে স্বাভাবিক যানচলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককেও নিরাপত্তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নদীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় নির্মাণ কাজ আটকে আছে। আশা করছি সকল জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ সম্ভব হবে।