
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রবাসীর আজীবনের সঞ্চয়ে নির্মিত স্বপ্নের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বনবিভাগ। বনের জমি দাবি করে উথুরা বনবিভাগের কর্মীরা বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের কৈয়াদী গ্রামের প্রবাসী লেবু মিয়া দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে ধীরে ধীরে নিজের বাড়িটি নির্মাণ করেন। দুই বছর ধরে ধাপে ধাপে কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে ওঠার আগেই বনবিভাগ এসে বাড়িটি ভেঙে দেয়। এতে লেবু মিয়ার স্বপ্ন এক নিমিষে চুরমার হয়ে যায়।
উথুরা বনবিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, লেবু মিয়ার বাড়িটি সরকারি বনজমিতে নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রবাসী লেবু মিয়া ও তার পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের জমি সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর সকল কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন,
“এটা আমাদের নিজস্ব জমি। বনবিভাগ কোনো নোটিশ দেয়নি, কথা বলেনি—হঠাৎ করেই এসে বাড়ি ভেঙে ফেলেছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, লেবু মিয়া তো রাতারাতি ঘর তোলেননি—দুই বছর ধরে ধীরে ধীরে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কাজ চলাকালীন বনবিভাগ তখন কোথায় ছিল? এখন বাড়ি প্রায় শেষের পথে এসে গরিব প্রবাসীর স্বপ্নভঙ্গ ঘটানো অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, জমিটি আসলেই বনবিভাগের কিনা তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। যদি লেবু মিয়ার জমি বৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; আর যদি বনজমি হয়, তাহলে কেন দুই বছর আগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—সেই প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে।
ভালুকা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিয়ে জটিলতা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও বনবিভাগের সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীরা, নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি 


















