Dhaka ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শিক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি: ‘শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান সু-সন্তান নির্মানে! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী’র ১০টি নির্দেশনা বাবা মায়ের মেনে চলা উচিৎ!  হ্নীলা একাডেমী বৃত্তিপরীক্ষা ২০২৫-এর বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান সম্পন্ন নরসিংদী জেলায় সরল মনের মানুষ সচিব আলতাফ হোসেন ডুমুরিয়ায় খলসি স্কুল মাঠ এসিআই বীজ কোম্পানি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত নবীনগর এসোসিয়েশন’ চট্রগ্রামের অফিস শুভ উদ্ভোদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভোলাহাটে সাংবাদিক পরিবারের মিলনমেলা ও বনভোজন ২০২৬ অনুষ্ঠিত বুড়িচংয়ে পুলিশের অভিযানে ৮ মাদকসেবী গ্রেফতার রংপুরে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন বাবুরহাটে কচিকণ্ঠে পুরস্কার বিতরণ—নৈতিকতা ও খেলাধুলায় জোর: মোশাররফ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

এমপি’র নাম ভাঙিয়ে চাল সিন্ডিকেট—মোফাজ্জল অভিযুক্ত

 

জামালপুর সদর পাঁচ আসনের এমপি’র নাম ভাঙিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সিন্ডিকেট, অভিযুক্ত কৈডোলা ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন (মুবা)-এর বিরুদ্ধে এই চাল অবৈধভাবে সিন্ডিকেট করে কিনে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস।

 

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু কৈডোলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয়রা জানান, মোফাজ্জল হোসেন সুবিধাভোগীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিচ্ছেন।

 

কৈডোলা বাজারে অবস্থিত ডিলার ‘নাদিয়া ইসলাম’ এর কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে সেখানে ডিলারের যোগসাজশেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এখানে মোট ৪৮৪টি কার্ডের চাল বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রাজনৈতিক অবস্থানের দাপট দেখিয়ে তিনি উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি প্রকাশ্যেই তার অনিয়মের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন:”অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ডিলারশিপ নিয়েছি। সদর-৫ আসনের এমপির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করেছি, এখন এসব করব না তো কখন করব?”

 

তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন মন্তব্য শুধু আইন ও নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার শামিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী মেম্বার নির্বাচনকে টার্গেট করেই মোফাজ্জল হোসেন এই চাল মজুত করছেন। এলাকার হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে কেনা এই চাল তিনি কৌশলে জমা করছেন, যেন নির্বাচনের আগে তা বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করা যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  বোয়ালমারীতে সালিশি বসার আগেই দোকানে তালা

 

উল্লেখ্য যে, মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ চাল কেনাবেচার দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তিনি কোনো অদৃশ্য শক্তিবলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারের মানবিক এই কর্মসূচি যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শিক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি: ‘শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান

এমপি’র নাম ভাঙিয়ে চাল সিন্ডিকেট—মোফাজ্জল অভিযুক্ত

সময়: ০৮:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

জামালপুর সদর পাঁচ আসনের এমপি’র নাম ভাঙিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সিন্ডিকেট, অভিযুক্ত কৈডোলা ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন (মুবা)-এর বিরুদ্ধে এই চাল অবৈধভাবে সিন্ডিকেট করে কিনে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস।

 

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু কৈডোলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয়রা জানান, মোফাজ্জল হোসেন সুবিধাভোগীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিচ্ছেন।

 

কৈডোলা বাজারে অবস্থিত ডিলার ‘নাদিয়া ইসলাম’ এর কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে সেখানে ডিলারের যোগসাজশেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এখানে মোট ৪৮৪টি কার্ডের চাল বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রাজনৈতিক অবস্থানের দাপট দেখিয়ে তিনি উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি প্রকাশ্যেই তার অনিয়মের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন:”অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ডিলারশিপ নিয়েছি। সদর-৫ আসনের এমপির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করেছি, এখন এসব করব না তো কখন করব?”

 

তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন মন্তব্য শুধু আইন ও নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার শামিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী মেম্বার নির্বাচনকে টার্গেট করেই মোফাজ্জল হোসেন এই চাল মজুত করছেন। এলাকার হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে কেনা এই চাল তিনি কৌশলে জমা করছেন, যেন নির্বাচনের আগে তা বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করা যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  নড়াইলে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩৯৮ বোতল ইসকাফ ও ৫ বোতল বিদেশি মদ সহ দুইজন গ্রেফতার

 

উল্লেখ্য যে, মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ চাল কেনাবেচার দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তিনি কোনো অদৃশ্য শক্তিবলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারের মানবিক এই কর্মসূচি যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।