
রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
৪ এপ্রিল বীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষে জানানো হয়, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা মৌজার ১৫০ দাগের ৮৯ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক মরহুম আফজাল হোসেন। তিনি ৭.১০.১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মৃত জনৈক মনসুর আলীর ওয়ারিশগণ—পুত্র জিয়ারুল রহমান এবং ২.১০.২০০৪ সালে অপর পুত্র হামিদুলসহ স্ত্রী হামিদা বেওয়ার নিকট থেকে ক্রয় সূত্রে ৭৩২৮ নম্বর দলিলে ৪১ শতক ও ৭১৬৮ নম্বর দলিলে ৪৮ শতক মোট ৮৯ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হন এবং ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করেন।
নিজ নামে খাজনা-খারিজ সম্পন্ন এবং সদ্য জরিপে আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী আছিয়ার খাতুন নামে খতিয়ান নম্বর ৪৫, মৌজা: সনকা, জেএল-১৭৩, শীট নম্বর: ৯৯৯ আরএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২০১৩ সালে সমুদয় জমিতে ইউক্লিপ্টাস গাছের বাগান সৃজন করায় এটি বর্তমানে মূল্যবান ভূ-সম্পদে পরিণত হয়েছে।
২০২৩ সালে আফজাল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে তার ১ কন্যা, ৩ পুত্র ও ১ স্ত্রীই বৈধ মালিক হিসেবে রয়েছেন। পুত্র রুজ্জামান কামরু কারাম ও জাহাঙ্গীর আলম ইতালিতে প্রবাস জীবনযাপন করছেন।
তারা অভিযোগ করেন, জমির মালিকানা শতভাগ স্বচ্ছ ও নিস্কন্টক হওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেণির ভূমিদস্যু, টাউট, বাটপার ও স্বার্থান্বেষী চক্র কোনো বৈধ দলিল ছাড়াই বাগানটি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সম্পত্তি গ্রাসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমি ও বাগান দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের অভিযোগ তুলে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রবাসে অবস্থানের কারণে তাদের সম্পত্তি সহজে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করেন, প্রবাসীদের সম্পদ সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।
ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুজ্জামান কামরু কারাম ২০২৫ সালে প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের পুত্র রেজাউল ইসলামকে আমমোক্তারনামা দিয়ে সম্পত্তি দেখভাল ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
তারা আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষদের কোনো বৈধ দলিল নেই, শুধুমাত্র ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে কিছু অভিযোগও করা হয় এবং বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
এ ঘটনায় ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে ২০৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পূর্বের মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্প্রতি দেশে ফেরা প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমসহ অন্যান্যরা।
রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি 






















