
মো:মিজানুর রহমান (মিজান মৃধা),ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এসময় ৫টি দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা হলো, জুলহাস (৪২), সলেমান শেখ (৫০), সানোয়ার শেখ (৫০), হানিফ খালাসী (৫৫)।পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন ও দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের সাথে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে।দাদপুর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক। তবে গত সংসদ নির্বাচনের আগে বোয়লামারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (নির্বাচনে পরাজিত) খন্দকার নাসিরুল ইসলামের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।অপরদিকে তার প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে সালিশে আসা ওই এলাকার বিশিষ্ঠ ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।এর জের ধরে গত শনিবার বিকেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আধা ঘন্টা পরে চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজার নানান রকম উত্তেজনাকর কথাবার্তা ও কটাক্ষমূলক আচরণ করতে থাকেন বিল্লালের সমর্থকদের সামনে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির এক পযায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন বিল্লালের সমর্থক ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও আমি জমির দখল নিতে পারিনি। বর্তমানে ওই জমি ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দখল করে রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন আমার সমর্থক ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকানসহ আমার ৪/৫ জন সমর্থকের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, আমার লোকদের পিটিয়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, বিল্লাল কয়েকজন লোক নিয়ে আমার বাড়িতে তালা লাগিয়েছে এবং আমার লোকজনকে পিটিয়েছে । তারা অপরাধ করেছে এবং আইন হাতে তুলে নিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে একটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। গত শনিবার
ওই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত (রোববার বেলা ১১ টা) কোনপক্ষ থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তিনি বলেন, অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
Reporter Name 























