Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল কাঁঠালের সমারোহে মুখর উঠোন, শিশুদের উচ্ছ্বাস চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন শহীদ জিয়াউর রহমানের গুণাবলীর সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে হবে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্থিতিশীল রাজনীতি ও গণতন্ত্রের পথে সমঝোতার প্রয়োজন

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:২১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১১০ Time View

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

অ্যাড মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,
লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট


বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। তবে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংযম, দূরদর্শিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বা সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীল আচরণই দেশের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের গণতান্ত্রিক ধারা ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি পরিচালনা করে এসেছে। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। ফলে যে কোনো রাজনৈতিক সংকট বা দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে তারা কঠোর দমননীতি বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতির পথ বেছে নেবে—এমন ধারণা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিরও উচিত দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করা। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়লে তা শেষ পর্যন্ত পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই অস্থির করে তোলে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখেও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করা, যা ভবিষ্যতে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের রায় দিয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনকেই রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা।
এছাড়া রাজনীতির আড়ালে কোনো গোপন বা অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

ইতিহাস দেখায়, যখন স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়, তখনই নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রক্ষা করতে হবে এবং জনগণের আস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক আচরণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপর। পারস্পরিক সংঘাত বা বিভাজনের পরিবর্তে যদি দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে, তবে তা দেশের রাজনীতিকে আরও পরিপক্ব ও স্থিতিশীল করে তুলবে।

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

স্থিতিশীল রাজনীতি ও গণতন্ত্রের পথে সমঝোতার প্রয়োজন

সময়: ০২:২১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

অ্যাড মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,
লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট


বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। তবে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংযম, দূরদর্শিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বা সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীল আচরণই দেশের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের গণতান্ত্রিক ধারা ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি পরিচালনা করে এসেছে। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। ফলে যে কোনো রাজনৈতিক সংকট বা দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে তারা কঠোর দমননীতি বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতির পথ বেছে নেবে—এমন ধারণা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিরও উচিত দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করা। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়লে তা শেষ পর্যন্ত পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই অস্থির করে তোলে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখেও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করা, যা ভবিষ্যতে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের রায় দিয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনকেই রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা।
এছাড়া রাজনীতির আড়ালে কোনো গোপন বা অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

ইতিহাস দেখায়, যখন স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়, তখনই নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রক্ষা করতে হবে এবং জনগণের আস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক আচরণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপর। পারস্পরিক সংঘাত বা বিভাজনের পরিবর্তে যদি দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে, তবে তা দেশের রাজনীতিকে আরও পরিপক্ব ও স্থিতিশীল করে তুলবে।

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট।