Dhaka ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ফুলতলার দামোদরে ছু-রিকা-ঘাতে যুবকের মৃ*ত্যু, আহত -২ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে হলোখানা ইউনিয়নের ষ্টেন্ডিং কমিটির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত গৌরীপুরের সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে চায় রিপন পরিবার বর্গ রামপালে মল্লিকেরবেড়ে এন. আমিন হেলথ জোন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি , ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুর রহমান,দাফন সম্পন্ন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা পঞ্চগড়ের দুই মাদকাবারী ৬ মাসের কারাদণ্ড বাগেরহাটের রামপালে খাস জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রামপালে মানববন্ধন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবসের চেতনা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ Time View

মানিক লাল ঘোষ,


​বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক ১৭ এপ্রিল—ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট মূলত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল—এই অন্তর্বর্তী সময়েও রাষ্ট্রপরিচালনার সমস্ত দিকনির্দেশনা আসছিল বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও তাঁর পূর্বঘোষিত আদর্শ থেকে। যদিও বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, কিন্তু তাঁর বজ্রকণ্ঠ আর আজীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ছিল এই সরকারের মূল শক্তি।

​মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

​মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী জানতে পারে—বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র।

​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারকে হামলা ও ভাঙচুর এবং ইতিহাসের অবমাননার ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা জাতি হিসেবে আমাদের দেউলিয়া হওয়ারই পরিচয় দেয়। একটি স্থাপনা ভাঙা মানে কেবল স্থাপত্যশৈলী ধ্বংস করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা, যা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইতিহাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র জাতির দর্পণ।
​বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু ১৭ এপ্রিল বা ১০ এপ্রিলের মতো ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো ধ্রুব। এগুলোর ওপর আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ভিত্তিকে দুর্বল করা। মুজিবনগর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে। ভাঙচুর বা বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো মহান ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস রক্ষা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ার।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক মুক্ত কালীগঞ্জ গড়তে সকালের সহযোগিতা কামনা করেন এমপি এক এম ফজলুল হক মিলন

​(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ফুলতলার দামোদরে ছু-রিকা-ঘাতে যুবকের মৃ*ত্যু, আহত -২

১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবসের চেতনা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা

সময়: ০৯:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মানিক লাল ঘোষ,


​বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক ১৭ এপ্রিল—ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট মূলত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল—এই অন্তর্বর্তী সময়েও রাষ্ট্রপরিচালনার সমস্ত দিকনির্দেশনা আসছিল বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও তাঁর পূর্বঘোষিত আদর্শ থেকে। যদিও বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, কিন্তু তাঁর বজ্রকণ্ঠ আর আজীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ছিল এই সরকারের মূল শক্তি।

​মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

​মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী জানতে পারে—বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র।

​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারকে হামলা ও ভাঙচুর এবং ইতিহাসের অবমাননার ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা জাতি হিসেবে আমাদের দেউলিয়া হওয়ারই পরিচয় দেয়। একটি স্থাপনা ভাঙা মানে কেবল স্থাপত্যশৈলী ধ্বংস করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা, যা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইতিহাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র জাতির দর্পণ।
​বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু ১৭ এপ্রিল বা ১০ এপ্রিলের মতো ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো ধ্রুব। এগুলোর ওপর আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ভিত্তিকে দুর্বল করা। মুজিবনগর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে। ভাঙচুর বা বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো মহান ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস রক্ষা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ার।

আরও পড়ুনঃ  লোহাগড়ায় প্রকল্পে অনিয়ম, অনুদানের ৬০ গরুর হদিস নেই

​(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)