
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও কচাকাটা থানার সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে অবৈধভাবে কারেন্ট শক ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ শক মেশিন, ব্যাটারি ও মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টা থেকে বুধবার ভোর ৩টা পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারী থানাধীন দুধকুমার নদ এবং কচাকাটা থানার সীমান্ত সংলগ্ন গঙ্গাধর, সংকোশ ও ব্রহ্মপুত্র নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে নৌকা, ব্যাটারি চালিত ইলেকট্রিক শক মেশিন ও জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এ পদ্ধতিতে শুধু মাছই নয়, নদীর বিভিন্ন প্রজাতির উপকারী জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন-এর নেতৃত্বে কচাকাটা থানা পুলিশের একটি দল গভীর রাতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা নদীতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত একাধিক কারেন্ট শক মেশিন, ব্যাটারি ও জাল জব্দ করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধভাবে কারেন্ট শক দিয়ে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একসময় এসব নদীতে মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু এ ধরনের ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে মাছ ও জলজ প্রাণী নিধনের কারণে এখন স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। এখনই সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে ভবিষ্যতে এসব নদীতে অনেক প্রজাতির জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 























