Dhaka ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ যেত নৌকায় ফুলতলার দামোদরে ছু-রিকা-ঘাতে যুবকের মৃ*ত্যু, আহত -২ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে হলোখানা ইউনিয়নের ষ্টেন্ডিং কমিটির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত গৌরীপুরের সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে চায় রিপন পরিবার বর্গ রামপালে মল্লিকেরবেড়ে এন. আমিন হেলথ জোন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি , ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুর রহমান,দাফন সম্পন্ন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা পঞ্চগড়ের দুই মাদকাবারী ৬ মাসের কারাদণ্ড
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পীরগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ, খরিপ-১ মৌসুমে ক্ষুদ্র কৃষকের পাশে প্রশাসন

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৬ Time View

 

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ , ঠাকুরগাঁও :


ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে সহায়তা প্রদান করা হয়, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রণোদনার অংশ হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ৫ কেজি এমওপি (মিউরিয়েট অব পটাশ) সার দেওয়া হয়। এই উপকরণগুলো কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সার ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সহায়তা কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন ও সম্পাদক নসরতে খোদা রানা। তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে কৃষকদের হাতে সরাসরি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খরিপ-১ মৌসুম মূলত গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে আউশ ধান, ভুট্টা, ডাল, তেলজাতীয় ফসলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, সার ও বীজের উচ্চমূল্য এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এই প্রণোদনা কর্মসূচি সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষকদের পুনরায় উৎপাদনমুখী করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি এ সহায়তা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা চাই, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক ফলন নিশ্চিত করুক। এজন্য শুধু উপকরণ বিতরণ নয়, তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রণোদনা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আরও পড়ুনঃ  রুহিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্প আছে তেল নেই, বিপাকে কৃষক ও পেশাজীবীরা

কৃষকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক। উপকারভোগী এক কৃষক জানান, “বর্তমানে কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়ক। এতে আমরা নতুন উদ্যমে চাষাবাদ করতে পারবো।” আরেকজন কৃষক বলেন, “সরকার যদি নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা দেয়, তাহলে আমরা আরও বেশি জমিতে আবাদ করতে উৎসাহ পাবো।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক সময় প্রকৃত কৃষক নির্বাচন, উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং তদারকির অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয়ে আরও জবাবদিহিতা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে প্রণোদনার সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পীরগঞ্জে খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় কৃষি খাতকে চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই উদ্যোগ কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর অবদান রাখবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ যেত নৌকায়

পীরগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ, খরিপ-১ মৌসুমে ক্ষুদ্র কৃষকের পাশে প্রশাসন

সময়: ০৭:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ , ঠাকুরগাঁও :


ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে সহায়তা প্রদান করা হয়, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রণোদনার অংশ হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ৫ কেজি এমওপি (মিউরিয়েট অব পটাশ) সার দেওয়া হয়। এই উপকরণগুলো কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সার ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সহায়তা কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন ও সম্পাদক নসরতে খোদা রানা। তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে কৃষকদের হাতে সরাসরি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খরিপ-১ মৌসুম মূলত গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে আউশ ধান, ভুট্টা, ডাল, তেলজাতীয় ফসলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, সার ও বীজের উচ্চমূল্য এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এই প্রণোদনা কর্মসূচি সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষকদের পুনরায় উৎপাদনমুখী করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি এ সহায়তা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা চাই, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক ফলন নিশ্চিত করুক। এজন্য শুধু উপকরণ বিতরণ নয়, তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রণোদনা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আরও পড়ুনঃ  রুহিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্প আছে তেল নেই, বিপাকে কৃষক ও পেশাজীবীরা

কৃষকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক। উপকারভোগী এক কৃষক জানান, “বর্তমানে কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়ক। এতে আমরা নতুন উদ্যমে চাষাবাদ করতে পারবো।” আরেকজন কৃষক বলেন, “সরকার যদি নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা দেয়, তাহলে আমরা আরও বেশি জমিতে আবাদ করতে উৎসাহ পাবো।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক সময় প্রকৃত কৃষক নির্বাচন, উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং তদারকির অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয়ে আরও জবাবদিহিতা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে প্রণোদনার সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পীরগঞ্জে খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় কৃষি খাতকে চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই উদ্যোগ কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর অবদান রাখবে।