দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। তাদের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৯০ জন।
এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে সরকার অনুমোদিত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি। এর মধ্যে সচল রয়েছে ২ হাজার ১৮৭টি। এসব এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে মূলত বিদেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মো. জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অংশ নেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Reporter Name 



























