Dhaka ০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শ্রীপুর পৌরসভার অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, দুই শতাধিক পরিবার পানি বন্ধি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু। শাহবাগের একটি ম্যাস থেকে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার। নোয়াপাড়ায় আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বীমা দলিল বিতরণ বুড়িচংয়ে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাপাহারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড কালিয়াকৈরে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ২ জন ডাকাত আটক গাজীপুর ১ আসনের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবিত সভা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব বালিয়াডাঙ্গীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৫২ পরিবার পেল টিন ও নগদ সহায়তা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

যশোরে অপহৃত নাবালিকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার, প্রসংশায় ভাসছে প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক


যশোরের মণিরামপুরে প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় অপহৃত হওয়া ১৩ বছর বয়সী এক নাবালিকা মেয়েকে উদ্ধার করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ। পুলিশের জোরদার অভিযান ও বুদ্ধিদীপ্ত তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা অঞ্চল থেকে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

‎স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের দরিদ্র ও শান্ত স্বভাবের একটি পরিবারের ওই নাবালিকা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) গত ১ মে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিকেলের পর বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন এবং সবার পরামর্শে মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। জিডি হওয়ার পরপরই থানা পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং মেয়েটিকে উদ্ধারে মাঠে নামে।

‎সূত্র জানায়, কুলটিয়া গ্রামের প্রত্যয় বিশ্বাস (২১), পিতা :মৃত প্রতাপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ওই নাবালিকাকে পছন্দ করতো। কিন্তু মেয়েটির পরিবার বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যয় বিশ্বাস তার প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে অপহরণ করে। অপহরণের পর তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে খুলনার একটি স্থানে গোপনে লুকিয়ে রাখে, যাতে পরিবার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহজে তাকে খুঁজে না পায়। এদিকে, জিডির পরপরই মণিরামপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এনে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান জোরদার করে। পুলিশের একাধিক টিম সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালাতে থাকে। টানা ৪৮ ঘণ্টার নিরচ্ছিন্ন চেষ্টার পর অবশেষে খুলনা থেকে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

‎পুলিশের এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর মেয়েটিকে ফিরে পেয়ে তার পরিবারে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সেই প্রভাশালী ব্যাক্তিদের কর্মকান্ডকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও পুলিশ কোনো চাপের কাছে নত স্বীকার না করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

‎এবিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং মাঠপর্যায়ে একাধিক টিম কাজ করে। টানা অভিযানের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”ওসি আরও বলেন “কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে পুলিশ নত স্বীকার করে না। আইন সবার জন্য সমান। অপহরণসহ এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শ্রীপুর পৌরসভার অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, দুই শতাধিক পরিবার পানি বন্ধি

যশোরে অপহৃত নাবালিকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার, প্রসংশায় ভাসছে প্রশাসন

সময়: ০৯:৫২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক


যশোরের মণিরামপুরে প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় অপহৃত হওয়া ১৩ বছর বয়সী এক নাবালিকা মেয়েকে উদ্ধার করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ। পুলিশের জোরদার অভিযান ও বুদ্ধিদীপ্ত তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা অঞ্চল থেকে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

‎স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের দরিদ্র ও শান্ত স্বভাবের একটি পরিবারের ওই নাবালিকা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) গত ১ মে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিকেলের পর বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন এবং সবার পরামর্শে মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। জিডি হওয়ার পরপরই থানা পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং মেয়েটিকে উদ্ধারে মাঠে নামে।

‎সূত্র জানায়, কুলটিয়া গ্রামের প্রত্যয় বিশ্বাস (২১), পিতা :মৃত প্রতাপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ওই নাবালিকাকে পছন্দ করতো। কিন্তু মেয়েটির পরিবার বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যয় বিশ্বাস তার প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে অপহরণ করে। অপহরণের পর তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে খুলনার একটি স্থানে গোপনে লুকিয়ে রাখে, যাতে পরিবার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহজে তাকে খুঁজে না পায়। এদিকে, জিডির পরপরই মণিরামপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এনে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান জোরদার করে। পুলিশের একাধিক টিম সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালাতে থাকে। টানা ৪৮ ঘণ্টার নিরচ্ছিন্ন চেষ্টার পর অবশেষে খুলনা থেকে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।

আরও পড়ুনঃ  মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: বাংলাদেশে কারাবন্দি সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতার সংকট

‎পুলিশের এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর মেয়েটিকে ফিরে পেয়ে তার পরিবারে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সেই প্রভাশালী ব্যাক্তিদের কর্মকান্ডকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও পুলিশ কোনো চাপের কাছে নত স্বীকার না করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

‎এবিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং মাঠপর্যায়ে একাধিক টিম কাজ করে। টানা অভিযানের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”ওসি আরও বলেন “কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে পুলিশ নত স্বীকার করে না। আইন সবার জন্য সমান। অপহরণসহ এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।