
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও:
স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে যেখানে ডিজিটাল সেবা, দ্রুত প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়, সেখানে পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব চিত্র এক ভিন্ন প্রশ্ন তুলে দেয়। লাইসেন্স কার্ড, ড্রাইভিং ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি সরবরাহ এই তিনটি মৌলিক খাতে সমন্বয়ের অভাব এখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে প্রকট করে তুলছে।
সম্প্রতি একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা গেছে শতাধিক মোটরসাইকেল ও মানুষের দীর্ঘ সারি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে করে শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে পেশাজীবীরা পর্যন্ত চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
পীরগঞ্জ, দিনাজপুর প্রবেশদ্বার কাঞ্চন ঘাটেরস্থানীয় বাসিন্দা পয়গাম জানান, “স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলা হলেও এখানে এখনো মৌলিক ব্যবস্থাপনাই ঠিকমতো হচ্ছে না। তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।” একইভাবে পয়গামের চায়ের দোকানে রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “লাইসেন্সধারী চালকদের জন্য কোনো আলাদা সুবিধা নেই। সবাইকে একই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।”
এই সমস্যার আরেকটি দিক তুলে ধরেন হয়দার আল। তার ভাষায়, “প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদার হওয়া দরকার। কখন তেল আসবে, কতক্ষণ দেওয়া হবে এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। ফলে গুজব ছড়ায়, মানুষ হুড়োহুড়ি করে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”
প্রশাসনিক কাঠামোর একটি মৌলিক দুর্বলতা এখানে স্পষ্ট দেখতে তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং সেবার সময়সূচির অস্পষ্টতা। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহের সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা না থাকায় সাধারণ মানুষ অনিশ্চয়তায় ভোগেন। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্স কার্ড বা নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য কোনো অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। তৃতীয়ত, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতি কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই সমস্যাকে কেবল স্থানীয় অসুবিধা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার একটি প্রতিফলন, যেখানে “স্মার্ট” শব্দটি বাস্তব প্রয়োগে পিছিয়ে পড়ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের জন্য শুধু নীতি ঘোষণা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন বাস্তবায়নের কার্যকর রূপরেখা এবং মাঠপর্যায়ের জবাবদিহিতা।
সমাধানের জন্য কয়েকটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও সরবরাহের তথ্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সধারী চালকদের জন্য আলাদা লেন বা সময় নির্ধারণ করলে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
সবশেষে বলা যায়, স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হবে, যখন মাঠপর্যায়ের এই ছোট ছোট সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাবে। কারণ নাগরিকের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোই একটি উন্নত রাষ্ট্রের প্রথম শর্ত।
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও: 


















