জুয়া-মাদকের আসর, পুলিশের অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার
মোঃ শহীদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় এলাকায় ফের গড়ে ওঠা জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে টিন ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত ডোবার ওপর বাঁশের খুঁটি ও টিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে ওসমান গনি (৩২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এর আগে গত ৩ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ওই জুয়ার ঘরটি ভেঙে দেয়। একই ঘটনায় ওসমানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।
ওই অভিযানের পর কিছুদিন জুয়া খেলা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ইপিজেড থানার এসআই আবু বকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় এলাকায় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আমবাগানের জঙ্গলে অভিযান চালায়।
এ সময় জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় ২ সেপ্টেম্বর মামলা নম্বর-১ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জুয়া প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান ঠেকাতে জুয়ার আস্তানায় যাওয়ার পথে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে দুই স্থানে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলার ঘটনাও রয়েছে। তবে এসব কৌশল পুলিশের অভিযান ঠেকাতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ওই এলাকায় জুয়া ও মাদকের আসর বসায় আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এতে স্থানীয় যুবসমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করা হলেও কিছুদিন পর আবার নতুন করে একই স্থানে জুয়ার আসর বসানো হতো। ফলে স্থায়ীভাবে এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে অস্থায়ী ঘরটি অপসারণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে সোমবার অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ইপিজেড থানার এসআই মো. মামুনুর রশিদ, এসআই মো. কামরুজ্জামানসহ থানার মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা সিটি করপোরেশনের অভিযান পরিচালনাকারী দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
অভিযান শেষে জুয়া ও মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, অস্থায়ী ঘরটি অপসারণের ফলে দীর্ঘদিনের উৎপাত থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
Reporter Name 























