
হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির, বাপসনিউজ:
ওয়াশিংটন, শুক্রবার,৩০ অক্টোবর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরকে ঘিরে কথিত বিয়ে ও অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবার শুধু রিপাবলিকান শিবির নয়, ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক একজন নেতাও অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ।মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাবেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক সংগঠক জো রাডিনোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, তা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য’। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; আদালতে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
রাডিনোভিচ আরও বলেন, ওমরের আর্থিক বিষয়গুলো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনো জনসমক্ষে আসেনি বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন ওমরের নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে যুক্ত ডেমোক্র্যাট কর্মী ব্রায়ানা রোজ লি। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
জবাবে রাডিনোভিচ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের ওপর তাঁর আস্থা সীমিত। এমনকি তদন্তের সময় নিয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বিয়ে-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থানে অনড়।
২০১৬ সালের তদন্ত নিয়ে নতুন তথ্য
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ২৯ অক্টোবর ২৯২৬,প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ইলহান ওমরের ২০০৯ সালের বিয়ে নিয়ে তদন্ত করেছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বিয়েতে সম্ভাব্য অনিয়মের কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমরের বাড়িতে এফবিআই-সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার অভিযান
গত ১২ অক্টোবর ২০২৬,ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাড়িতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (HSI) কর্মকর্তারা তল্লাশি চালান। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তদন্তের আওতায় ওমরের অভিবাসন ইতিহাস, নাগরিকত্বসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং পারিবারিক তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইলহান ওমর বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ে ও অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেও তিনি তদন্তকে বর্ণনা করেছেন।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ
মংগলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই বিতর্ক তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনৈতিক অভিযোগ, তদন্ত এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত ইলহান ওমরকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।
Reporter Name 

























